বাগেরহাটে সামাজিক বন বিভাগের কাজ না করেই ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

13
1632

বাগেরহাট অফিস :

বাগেরহাটে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার যোগসাজসে সরকারের প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিগত জুন মাসে পাঁচ দিনে ২২টি চেকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাগেরহাটের দশানী গ্রামের আনিছুজ্জামান নামের এক ব্যাক্তি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগে বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো.সাইদুল ইসলামের দূর্নীতি ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগে তারিখসহ ব্যাংকে ২২টি চেকের নম্বও ও টাকার পরিমান উল্লেখ করা হয়েছে। ওই লিখিত অভিযোগ পত্র থেকে জানাগেছে, ডিএফও ২৫ মে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তার স্বাক্ষরে ১ জুন ১টি চেক, ১৪ জুন ৪টি চেক, ২০ জুন ১০টি চেক, ২৮ জুন ৪টি চেক ও ২৯ জুন ৩টি চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারদের ৪ কোটি ১৯ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ টাকা প্রদান করেছেন। দূর্নীতি ও অনিয়মের খোদ পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র নিজ জেলা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা পার্ক, কাউখালী ইকোপার্ক, শংকরপাশা বকুল ইকোপার্ক ও ৫টি উপকূলীয় জেলায় পুকুর খনন প্রকল্পও রয়েছে। এ সব প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি এরমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   Satkhira014 copy

এছাড়াও ওই অভিযোগ পত্রে মাত্র ১ মাসে সরকারি গাড়ীর জ্বালানী তেল খরচ হিসেবে ২ লাখ উত্তোলনের পাশাপাশি চিন্ময় মধু নামের এক ফরেস্টারের মাধ্যমে ডিএফও বাংলাদেশের ৫টি উপকূলীয় জেলায় বনায়ন শীর্ষক প্রকল্পের বন সৃজন, চারা উত্তোলনসহ অন্যান্য খাতে অগ্রিম ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলেছেন। যেসব খাতে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, সুপারি চারা উত্তোলন- বাগান সৃজন, এক বছর বয়স্ক সুপারি চারা রক্ষাবেক্ষন- চারা পাহারা, নারকেল চারা উত্তোলন- নারকেল চারা রোপন, স্ট্রিপ বাগান এর চারা উত্তোলন, স্ট্রিপ বাগান সৃজন, তাল চারা উত্তোলন, তাল বাগান সৃজন, খেজুর চারা উত্তোলন, খেজুর বাগান সৃজন, বাঁশ বাগান সৃজন, খাচাসহ শোভাবর্ধনকারী বাগান সৃজন। অন্যান্য খাতের মধ্যে সাইনবোর্ড মেরামত-রক্ষাবেক্ষন, কম্পিউটার মেরামত ও গাড়ীর মালামাল ক্রয়। এভাবেই বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্মসাত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হযেছে। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো.সাইদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ সামাজিক বন বিভাগে মাত্র এক মাস যোগদান করেছি। অফিসের সব অনিয়ম ও দূর্নীতি বন্ধে সচেষ্ট হওয়ায় একটি কুচক্রী মহল তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানী করতে অপ্রচার চালাচ্ছে।’ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না হলেও তিনি কীভাবে বিল প্রদান করেছেন ? সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি এই বন কর্মকর্তা।

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির

13 COMMENTS