বাংলাদেশে সমস্যা জর্জরিত শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণ জরুরী

0
132

ডেস্ক রিপোর্ট:

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার আগে দরকার শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এ সকল প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, কোনোটিতে শ্রেণি কক্ষের সংকট,কোনোটিতে টয়লেটের সংকট আবার কোনোটিতে খেলার মাঠ সংকট। কম্পিউটার ল্যাব ও সাইন্স লাবের সংকট তো রয়েছেই। এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ জরুরি। জাতীয়করণ এখন যুগের দাবি। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে এসকল সমস্যার সমাধান হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত আয় যদি সরকারি কোষাগারে নেয়া হয়, তাহলে জাতীয়করণ করতে সরকারকে খুব বেশি ভর্তুকি দিতে হবে বলে মনে হয় না। আর তা কেবল বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। আশা করি তিনি খুব দ্রুত এ কাজটি করে শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটাবেন। আমাদের দেশে শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন করা হয়। অনেকেই শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। নিজে শিক্ষক না হলে হয়তো তা অনুধাবন করতে পারতাম না। অনেকেই তুচ্ছ করে বলে কোনো চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতা শুরু করেছ! তাদের কাছে যেন শিক্ষকতা কোনো চাকরি বা পেশার মধ্যেই পড়ে না । অথচ শিক্ষকতা হচ্ছে মহান পেশা। ভাবতে অবাক লাগে, যারা এসব কথা বলে তারাও তো কোনো না কোনো শিক্ষকের কাছে পড়েই বড় চেয়ার দখল করে আছেন। তাহলে তারা কীভাবে শিক্ষকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন? তারা বড় চেয়ারে বসে চারদিক থেকে শুধু(বৈধ ও অবৈধ) টাকা উপার্জন করে। কিন্তু শিক্ষকরা তো আর তাদের মতো বিলাসী জীবন-যাপন করতে পারে না। শিক্ষকদের তো নুন আনতে পানতা ফুরোয়। শিক্ষকরা সাধারণত সহজ,সরল প্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা মানুষকে ধোকা দিয়ে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয় না। শিক্ষকদের সম্পর্কে এ ধরনের নেতিবাচক কথা বলার কারণ হচ্ছে, শিক্ষকরা সবদিকেই অবহেলিত। বিশ্বের কোনো দেশেই শিক্ষকদের এতটা অবমূল্যায়ন নেই। শিক্ষকদের এ দৈন্য দশা থেকে উত্তোলনের একমাত্র উপায় হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। অথচ যাদের হাত ধরে ডিজিটাল দেশ গড়া হবে, তাদের (আইসিটি শিক্ষকদের) আজ অভুক্ত থাকতে হচ্ছে। তারা বিনা বেতনে দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রদের আইসিটি শিক্ষা দিচ্ছেন। ২০১১ সাল থেকে আইসিটি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। আমাদের দেশে অনেক ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে নিজের খেয়ে বিনা বেতনে জ্ঞান বিতরণ করছেন। সরকারের দৃষ্টি তাদের ওপর পড়ছে না। অথচ প্রতি বছর বড় কর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে! যার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির /মুন/রহ