বাঁশদহায় দোকানঘর দখল করে যুবলীগের অফিস বানালেন যুবলীগনেতা

0
468
বিশেষ প্রতিনিধি:
অসহায় এক পরিবারের দোকানঘর দখল করে যুবলীগের সাইনবোর্ড টানিয়ে যুবলীগের অফিস ঘর বানালেন বাঁশদহা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রিপন। এ ঘটনায় বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অসহায় ওই পরিবারকে খুনজখম করারও হুমকিধামকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা সদরের কাওয়ানডাঙ্গা বাজারে। এ দিকে দোকানঘর দখলের পর আনন্দ উল্লাস করে সেখানে উচ্চশব্দে মাইকও বাজানো হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়রা জানান, কাউনডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ আলি, আবুল হোসেন ও আলি হোসেন কাউনডাঙ্গা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বসতভিটার একপাশে দোকান ঘর তৈরি করে মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন। দোকানের উপর নির্ভর করে তারা সংসার নির্বাহ করতেন। কিন্তু একাধিকবার রাস্তার পাশের ওই দোকানঘরটি দখলের পায়তারা চালালে ভূ’ক্তভূগীরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি চলমান আছে। আদালতে মামলা চলমান থাকাবস্থায় যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্যে আদালতের নির্দেশে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য দুই পক্ষকে নোটিশ করে এসেছিলেন।
কিন্তু সকল কিছু উপেক্ষা করে ২নভেম্বর সন্ধার দিকে বাঁশদহা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রিপনের নেতৃত্বে একই গ্রামের হ্সাান, রেজাউল, খোকন, ইমনসহ কয়েকজন দোকান ঘর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে তারা পাশের একটি ঘরে মজুত করে রাখে। পরে তারা ওই দোকানঘর দখল করে  যুবলীগের একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে যুবলীগের অফিসঘর বানায়। এছাড়া কয়েকদিন পূর্বেও দোকানের পাশে থাকা কয়েকটি শিশুগাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়। বাধা দিতে আসায় অসহায় ওই পরিবারের সদস্যদের রাম দা দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায় যুবলীগনেতা ও তা সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই দিনই ভূক্তভূগীরা এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগও দেন।
স্থানীয়রা আরো জানায়, খোরশেদ আলম রিপন তার বাহিনী নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তান্ডব শুরু করেছে। তারা এলাকায় যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে জমিদখল, মসজিদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপকর্ম শুরু করেছেন। তাদের তান্ডব হতে বাদ পড়ছেনা স্বয়ং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু  তারা এলাকায় এতোই তান্ডব শুরু করেছেন যে তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচেছ না।
এ ব্যাপারে বাঁশদহা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রিপন দোকানঘরে যুবলীগের সাইনবোর্ড টানানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আদালতের রায় রেজাউলের পক্ষে আসার পরও তারা দোকানঘর ভোগদখল করতে পারছিলো না ফলে রেজাউল ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করে। তারপরও সে দোকানঘর দখল পাচ্ছিলনা। সে কারণে এলাকার লোক নিয়ে রেজাউল দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে আমি কোন প্রকার নেতৃত্ব দেয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার এস আই হাসানুর রহমান বলেন, গাছকাটা ও জমি দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সে অনুযায়ী আমি ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যেয়ে গাছ কাটার সত্যতা মেলে। এরপর আগামী দুই একদিনের মধ্যে মিমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে বলে আসি। এ ছাড়া আদালতে মামলা চলমান থাকায় জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারেও দুই পক্ষকে জোর তাগিদ দিয়ে আসি।