বাঁচার আসায় আশাশুনির বীরেশ্বর মাথা গোজার ঠাই চায়

0
126

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-সমুদ্র্রে জলরাশির সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা এক একটা  জনপদকে বিধ্বস্ত করে দেয়। নিশ্চিহ্ণ হয়ে যায় মানুষের ঘরবাড়ীসহ সকল সহায়-সম্পদ। ২৯ নভেম্বর ১৯৮৮ বঙ্গোপসাগরের ডুবে যায় সহস্রাধিক মাছধরা ট্রলার, নিঁখোজ হয় হাজার হাজর জেলে। ভয়াল সে তান্ডবের কথা স্মরণ করে এখনও আঁতকে ওঠে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের বিহারি পরামান্যে ছেলে বীরেশ্বর পরামান্য(৬০)। প্রকৃতির রুদ্র খেয়ালে ক্ষত-বিক্ষত স্মৃতি বুকে নিয়ে সেদিনের স্বজন ও বন্ধুবান্ধব হারানো স্মৃতি নিয়ে আজও ঘুরে বেড়ায়। সেদিন হঠাৎ করেই ক্ষেপে যায় প্রকৃতি। মুহূর্তেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর নির্মম হিম শীতল পরশ আলিঙ্গন করে  বীরেশ্বর ও তার সঙ্গীদের। বীরেশ্বরের ভাষ্য মতে, আশার চরে ফরাজী নামক এক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে ৬ মাসের জন্য জন প্রতি ৯ হাজার টাকার চুক্তিতে নওয়াপাড়া গ্রামের সুবোল,শিব,নরেন,জোড়দিয়া গ্রামের আনিজ আকবর,বড়দল গ্রামের ললিত সহ আরও আটদশ জন মাছ ধরতে যায়। ২৯ নভেম্ভর সারা দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল, রাত ৮/৯ টার সময় হঠাৎ প্রবাল বেগে ঝড় উঠে। আমি(বীরেশ্বর)তখন নৌকার মুড়িতে বসে ছিলাম।সারাদিন খাওয়া দাওয়া হযনি,নৌকার ভিরত রান্না করতে পারে নি। নৌকায়  শুকনো চাল ছিল তাই খেয়ে কোন রকমে সন্ধ্যা পযন্ত কাটায়। আমি(বীরেশ্বর)সকল কে বললাম আকাশের অবস্থা ভাল না,সুমুদ্রের গর্জন সুবিধা জনক না।কোথাও আলোর মুখ দেখা যাচ্ছেনা,শুধু পানি আর পানি,তোমরা জীবন বাঁচানোর জন্য প্রস্তত হও।তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন আমার ঞ্জান ফিরলো তখন আমি দেখি কেওড়া গাছের একটা ডালে বসে আছি। ক্ষিদের চোটে তিন দিন কেওড়া খেওয়া ছিলাম। সেখান থেকে ফরেষ্টার লোকজন এসে উদ্ধার করে আমাকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। সেদিন সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী চিত্রল হরিণসহ শত শত গবাদী পশুও রেহাই পায়নি । সর্বত্র ছিলমৃত দেহের বীভৎস দৃশ্য। আজও সেই দৃশ্য  তেড়ে বেড়ায় বীরেশ্বর হৃদয়। মানুষ আর পশুর লাশ একাকার হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সাগর আর নদীর জলরাশিতে। অনেক জেলের লাশ সেদিন বাধ্য হয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল সমুদ্রে জেগে ওঠা চরে। বীরেশ্বর বলেন, প্রচন্ড জলের ধাক্কায় কানের পর্দা ফেটে যায়। অর্থনৈতিক দন্যতার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারি না। আগে বেতনা,মরিচাপ,খোলপেটুয়ায় মাছ ধরে জীবন চলতো কিন্ত নদী গুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এখন আর মাছ পাই না। দুই ছেলে এক মেয়ে,স্ত্রী সহ খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে চলে। তিনি আরও বলেন,বয়স আমাকে কাবু করে ফেলেছে,চোখে তেমন দেখি না,কানে তো অনেক আগেই শুনতে পায় না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও একটু মাথা গোঁজার জায়গা করতে পারেনি। তিনি বলেন যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা সরকারি কোন প্রতিষঠান বীরেশ্বরের দৈন্যতায় এগিয়ে আসেন তাহলে তাদের কাছে চির কৃতঞ্জ থাকবে।

সচ্চিদানন্দদেসদয়/মুন/রহ