ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল শ্রীলঙ্কা

0
34

ডেস্ক রিপোর্ট:

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ মাঠে নামার আগে শ্রীলঙ্কানদের কাঁধে ছিল পাহাড় সমান চাপ। তবে, আপাতত ঘরে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কাটা কমিয়ে আনতে পেরেছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দল। টানা দুই ম্যাচ হেরে তৃতীয় ম্যাচে এসে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে লঙ্কানরা।

নিজেদের ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ে স্কোরকার্ডে জমা করে ১৯৮ রান। জবাবে ৩১ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয়ের দেখা পায় হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা।

ব্যাট হাতে কৃত্রিম আলোর নিচে শ্রীলঙ্কার জবাব দেওয়ার শুরুটা অবশ্য খুব একটা জুতসই হয়নি। উপল থারাঙ্গার স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে প্রথম আঘাতটা হানেন টেন্ডাই চাতারা। দুই ‘কুশল’ এরপর লঙ্কান দলের দায়িত্বটা তুলে নেন নিজেদের কাঁধে।

৭০ রানের জুটি গড়ে সে বিপদ সামলে সাজঘরের পথে হাঁটেন কুশল মেন্ডিস(৩৬)। কোমরের ব্যথায় নড়বড়ে দেখাচ্ছিল কুশল পেরেরাকেও। এক কুশলের ফেরার ৭ রানের মাথায় অর্ধশতক থেকে এক রান দূরে থাকতে আরেক কুশল, মুজারাবানির প্রথম ওয়ানডে উইকেটের শিকার হয়ে ফেরত যান শিবিরে।

নিরোশান ডিকওয়েলা এ ম্যাচেও হতাশ করেছেন। আসেলা গুনারত্নেও ফিরেছেন দ্রুতই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল, থিসারা পেসাররাকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দলকে।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এই দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৫৭ রান। চান্দিমাল অপরাজিত রয়ে যান ৩৮ রানে। প্রথমে চান্দিমাল থেকে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পেরেরার সংগ্রহ ছিল হার না মানা ৩৯ রান। মুজারাবানি নিয়েছেন তিন উইকেট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শুরুটা ভালো করলেও জিম্বাবুয়ে শিবিরে কালো ছায়া হয়ে আসেন পেরেরা। দলীয় ৪৪ রানে উপুল থারাঙ্গার দারুণ ক্যাচে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ২০ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে দারুণ সূচনা করেন তিনি। এরপর দলীয় ৪৯ রানে পেরেরার কাছেই ক্রেইগ অরভিন (২) ও  ৫৬ রানে সলোমন মায়ার (২১) উইকেট বিসর্জন দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ১৭তম ওভারে সিকান্দার রাজাকে (৯) ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ে শিবিরে চতুর্থ আঘাত হানেন লক্ষ্মণ সান্দাকান।

৭৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সান্দাকান সে চেষ্টা সফল করতে দেননি। তাঁর দ্বিতীয় উইকেটের শিকার হন ম্যালকম ওয়ালার (২৪)। এক রানের ব্যবধানে পিজে মুর বিদায় নিলে ব্রেন্ডন টেলর নিজের অর্ধশতকের মাধ্যমে কিছুটা প্রতিরোধ করলেও পরের তিনজনই মাঠে আসা-যাওয়া  করছিলেন। জিম্বাবুয়ের ইনিংস থেমে যায় ১৯৮ রানে।

ব্যাট আর বলের দারুণ নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন থিসারা পেরেরা। মঙ্গলবার সিরিজের চতুর্থ আর নিজেদের ফাইনাল বাঁচানোর লড়াইয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই পা রেখেছে ২৭ জানুয়ারির ফাইনালে।