ফরমালিনের হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

0
107

বরুণ ব্যানার্জী:

দেশের সর্বত্র খাদ্যে ভেজাল, খাদ্যে ফরমালিনের ব্যাপক ও আশঙ্কাজনক ব্যবহারে মানুষ প্রতিনিয়ত নানান কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও থেমে নেই খাদ্যে ফরমালিন মেশানো বা ভেজালের কারবার। বর্তমানে মুনাফা নির্ভর বাজার ব্যবস্থায় ভেজাল খাবার উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ, বাজারজাতের ক্ষেত্রে রীতি মতো এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অন্য ব্যবসায়ী-শিল্পপতিকে অসম ও অমানবিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।  দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে মৌসুমি সব ধরনের দেশি-বিদেশি ফল, শাকসবজি, মাছ, কাঁচা তরকারি, দুধ, মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য যেভাবে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে সরকার বা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো সংস্থা এ নিয়ে তেমন সরব নয় মাঠে-ময়দানে। আরেকটি সত্য ঘটনা হলো যারা খাদ্যে ফরমালিন মেশান তারা নিজেরা ও তাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনও সেই ভেজাল ও ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্য কিনছেন এবং খাচ্ছেন। ফরমালিনের ব্যবহার ও এর ভয়াবহতা নিয়ে দেশব্যাপী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ফল, মাছ, তরি-তরকারিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ফরমালিনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ফরমালিনের যথেচ্ছ ব্যবহার ঠেকাতে সরকারও নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। তবুও তা প্রত্যাশিত মাত্রায় কমানো যাচ্ছে না। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে দেশ, জনগণ, জনস্বাস্থ্য প্রভৃতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একই সঙ্গে নৈতিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহার, বিক্রি, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। নতুবা মানুষ হিসেবে আমরা সবাই বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়াব। কারণ এই ভেজাল ও ফরমালিনযুক্ত খাওয়ার খেয়ে আমরা সবাই  নানা রোগে আক্রান্ত হব। ধীরে ধীরে কঠিন রোগে মৃত্যুর পথে এগোতে থাকব। নিশ্চয় এটি কারো কাম্য নয়। তাই সম্মিলিতভাবে খাদ্যে ভেজাল বা ফরমালিনের ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার এখনই সময়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ ও ব্যবস্থা নেবে দ্রুত সেই প্রত্যাশা সবার।