প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি

0
151

অনলাইন ডেস্ক:

চিরিরবন্দরে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন কৃষকের ঘরে ঘরে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষি। লাভবান হচ্ছেন এলাকার উদ্যমী কৃষকরা। ফলে দিন বদলাচ্ছে কৃষকের, গতি সঞ্চার হচ্ছে কৃষি অর্থনীতির।

কৃষিক্ষেত্রে যোগ হওয়া এমনই ব্যবস্থা কমিউনিটি আদর্শ বীজতলা। চিরিরবন্দরে বীজতলা তৈরি ও চাষে কৃষকের মাঝে এখন ব্যাপক সাড়া জাগাচ্ছে। কমিউনিটি বীজতলা তৈরিতে বর্তমানে কৃষকের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। দিনদিন এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কমিউনিটি বা আদর্শ বীজতলা তৈরি করায় কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৯১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮৫১ হেক্টর উফশী ও ৬৮ হেক্টর হাইব্রিড।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিশেষ প্রকল্প ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম’(এনএটিপি)-এর আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ৬৫৫ হেক্টর জমিতে কমিউনিটি বা আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

কথা হয় উপজেলার ফতে জংপুরে এলাকার কৃষক রশিদুল ইসলাম, কৃষাণি রোকেয়া, গিনাসার কৃষক ছাত্তার, রহমান উদ্দিন, সাতনালার, নজরুল ইসলাম, সাইদুর ও মুকুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

তারা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে কমিউনিটি বা আদর্শ পদ্ধতিতে যেকোন জমিতে বীজতলা তৈরি করতে পেরে তারা লাভবান হচ্ছেন। আদর্শ বীজতলা থেকে চারা তোলা খুবই সহজ। আগের পদ্ধতির চেয়ে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজ, শ্রম, সার, জায়গা, সেচ ও সময়সহ খরচ অনেক কম লাগে। ফলনও ভালো পাওয়া যায়। ওই বীজতলা উদ্ভাবনের ফলে কৃষকরা সময়, টাকা ও শ্রমসহ সবদিকে লাভবান হচ্ছেন।

সাইতাড়া ইউনিয়নের কৃষক রহিজ উদ্দিন বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ৫০ কেজি বীজ লাগত, সেখানে কমিউনিটি পদ্ধতিতে ৩৫ কেজি বীজ লাগে। এতে সব মিলে এক হাজার ২শ টাকা খরচ কম হয়েছে। অথচ আগে ৫০ কেজি বীজ এর চারা দিয়ে ২.৫ একর জমি রোপন করা যেতো। আর কমিউনিটি বীজতলার ৩৫ কেজি বীজের চারা দিয়েও ওই জমিটুকু রোপন করা সম্ভব। তাছাড়া আগের চেয়ে ফলন ভালো হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, কৃষি বিভাগের তরফ থেকে কমিউনিটি বা আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করতে কৃষককে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

এজন্য বীজতলা তৈরির মৌসুমে ছুটির দিনেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঠে ঘুরতে হচ্ছে। এতে ওইসব কৃষক বেশি লাভবান হওয়ায় অন্য কৃষকরাও নিজ উদ্যোগে কমিউনিটি ও আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। আর এটি হলে চিরিরবন্দর উপজেলায় কৃষি অর্থনীতির সচলতা আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।