প্রতারণা-অব্যবস্থাপনায় হজ শেষ ১২২ জনের

148
662
 অনলাইন ডেস্ক:

হজ এজেন্সিগুলোর নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর হজ অফিসের চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সোমবার শেষ হলো চলতি বছরের হজযাত্রা। শেষ দিনে ভিসা হওয়ার পরও হজ এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে বিমানের টিকেট না পেয়ে ১২২ জন হজযাত্রী হজে যেতে পারেনি। গত কয়েকদিন রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পে আহাজারি করেও শেষ পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে হজ ক্যাম্প ত্যাগ করছেন এসব হজযাত্রীর সবাই। এদিকে, এই ১২২ জন ছাড়াও নানা জটিলতায় নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মোট ৩৯৭ জন হজযাত্রী হজে যেতে পারেনি। চলতি বছর যাদের ভিসা হয়েও বিমানের টিকিটের অভাবে হজে যেতে পারেনি তাদের সবাইকে আগামী বছর সরকারি খরচে হজে পাঠানো হবে বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ১২২ জনকে সৌদি পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি। কারণ আজ রাত ৯টার পর আর কোনো হজযাত্রী সৌদি প্রবেশ করতে পারবে না। তবে আমি কথা দিচ্ছি- আগামী বছর এদের সবাইকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হবে।’ বজলুল হারুন আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে বলেছি- এই হজযাত্রীদের তালিকা তৈরি করতে। এই তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জমা থাকবে। আগামী বছর হজ কার্যক্রম শুরু হলে এদের সাবাইকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হবে।655’ এদিকে, হজ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে টিকিট না দেয়ার অভিযোগে ইকো অ্যাভিয়েশনের তিন দালালকে আটক করছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইজাজ শফি পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আশকোনার হজ ক্যাম্পে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন এজেন্সিকে টাকা দিয়েও টিকিট পাননি এমন হজ যাত্রীরা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। তাদের একটাই দাবি- আমাদের হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করনে। ভুক্তভোগী হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আল-সাফা এজেন্সির ১৫ জন, মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির ছয়জন, সাইদ এয়ার ইন্টারন্যাশনালের চারজন, আল-বালাদ অভারসিজ হজ এজেন্সির দুজন, গোল্ডেন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির আটজন, উলামা আউলিয়া হজ এজেন্সির সাতজন, আশা এভিয়েশন হজ এজেন্সির ছয়জন, ইকো এভিয়েশন অ্যান্ড টুরিজম হজ এজেন্সির ১১ জন, গুলশানে মোহাম্মাদীয়া হজ এজেন্সির সাতজন, ইউনাইটেড টুরস হজ এজেন্সির পাঁচজন, সাউথ এশিয়া হজ এজেন্সির ১৬ জন, বুশরা হজ এজেন্সির তিনজন, ইউরো এশিয়ার দুজন, আবাবিল হজ এজেন্সির একজন, সাওবান এয়ার ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির চারজনসহ আরো কিছু হজ এজেন্সির মোট ১২২ হজযাত্রী টিকিটের অভাবে হজে যেতে পারেনি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মো. আবু ছালেক মৃধা তার স্ত্রীকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হজ ক্যাম্পে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন অনেক আগে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হজে যেতে পারার হাসি ফোটেনি। এজেন্সির মালিক তাদের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। মো. আবু ছালেক মৃধা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এজেন্সি থেকে আমাদের ফোন করে হজ ক্যাম্পে আসতে বলেছিল। হজ ক্যাম্পে আসার পর তারা আর যোগাযোগ করছে না। বলছে, আপনাদের টাকা আমরা পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘হজ অফিস থেকে আমাদের আশা দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আমরা হজে যেতে পারলাম না। আমরা তো বাড়িতে ফিরে গিয়ে মানুষকে মুখ দেখাতে পারবো না। সবাই আমাদের নিয়ে উপহাস করবে।’

4571 copyশুধু ছালেক মৃধাই নন, তার মত বহু হজযাত্রী আজ কাঁদতে কাঁদতে হজ ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন। এদিকে, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ও হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদান হোসাইন তসলিম বার বার বলেছিলেন, একজন হজযাত্রীকে রেখেও তারা কেউ হজ করতে সৌদি আরব যাবেন না।কিন্তু ১২২ জন হজযাত্রীকে রেখে ধর্মমন্ত্রী, ধর্মসচিব, হজ পরিচালক, হাবের মহাসচিবসহ সবাই রোববার রাতেই সৌদি আরব চলে গেছেন। এমনকি হজ ক্যাম্পের সহকারী হজ অফিসার আবদুল মালেকও রোববার রাত সাড়ে ৩টার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সৌদি আরব গেছেন।

5656 copy অবশ্য সোমবার সকাল থেকে সহকারী হজ অফিসারের কক্ষে আলো ও ফ্যান চালানো অবস্থায় দেখা যায়। কক্ষের দরজাও খোলা রয়েছে। তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চেয়ারে কাউকে বসতে দেখা যায়নি। ভুক্তভোগী হজযাত্রীদের অভিযোগ, ‘আমাদের সমস্যার কথা বলবো এমন কেউ আজ হজ ক্যাম্পে নেই। সামান্য কারণে আজ আমরা হজে যেতে পারলাম না। আজ যদি অফিসে সবাই থাকতো, সবাই যদি চেষ্টা করতো তাহলে হয়তো আমরা হজে যেতে পারতাম।’ভুক্তভোগী হজযাত্রী আবদুল আজিজ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সামান্য করণে আমরা হজে যেতে পারলাম না। সকাল থেকে কথা বলার মত হজ অফিসে কাউকে পাইনি। সবাই নাকি কালই সৌদি চলে গেছে। এখন আমাদের কী হবে। আমি এর বিচার চাই?’ এদিকে, সোমবার হজের সার্বিক বিষয়ে নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলণে জানান, অনেক ঝুট-ঝামেলার পরেও এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৩ জন হজে গেছেন। যাওয়ার কথা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ জনের। সে হিসেবে ৩৯৭ জন যাত্রী ভিসা, টিকেট ও অন্যান্য সমস্যার কারণে যেতে পারছেন না।

148 COMMENTS