প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ নিধনে বিরত থাকেতে হবে

0
103

বরুণ ব্যানার্জী:

বৈশাখে বাঙালি জাতির ইলিশ-প্রীতি দেখে মহামতি আলেকজান্ডারের কথা মনে পড়ে গেল। এ দেশে এসে নদীর জোয়ারভাটা দেখেই তিনি বলেছিলেন, ‘কী বিচিত্র এই দেশ সেলুকাস’! নদীর পানির চলাচল দেখেই তিনি হয়তো বুঝেছিলেন এ দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এতকাল পরে এসেও আজ বলতে হয়, আলেকজান্ডার যা বলেছিলেন তার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নির্মোহ সত্যতা। তা না হলে ইলিশ প্রজননকালীন সময়ে ঘটা করে ইলিশ নিধনের এত আয়োজন কেন? ইলিশ শুধু বাঙালিদের প্রিয় নয়। বিশ্বজুড়ে এর উচ্চমার্গীয় কদর রয়েছে। সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায় ,প্রজনন সময়কে বাদ দিয়ে ইলিশ ভক্ষণে আমরা অভ্যস্ত হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হতে পারে।

বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশই আসে ইলিশ থেকে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে ১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি বছর প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেড় কোটি মা-ইলিশ আহরণ থেকে রক্ষা পায়। এখান থেকেই প্রায় ৪৭ হাজার কেজি ডিম উৎপন্ন হয়, যা থেকে আমরা ৩০ হাজার কোটি রেণু পেতে পারি। এরমধ্যে শতকরা মাত্র ১০ ভাগ রেণু আহরণ থেকে রক্ষা পেলেও উৎপাদন বাড়ে তিন হাজার কোটি ইলিশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ বলছে, ইলিশ পাওয়া যায় এমন ১১ দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশের উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। বাকি ১০ দেশেই উৎপাদন নিম্নমুখী। বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। সুতরাং, সিদ্ধান্ত আপনার। ‘প্রজননকালীন আমরা ইলিশ নিধন এবং ভক্ষণ থেকে বিরত থাকব? অথবা না!’