‘পুলিশ ও সাংবাদিকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন’: সাতক্ষীরার নবাগত এস পি

0
1350
বিশেষ প্রতিনিধি:
২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল তাদেরকে বয়কট করার আহবান জানিয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘তাদের মাথার ওপর থেকে রাজনৈতিক ছাতা সরিয়ে নিন’।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবে। বিনা কারণে গ্রেফতার বন্ধ করা হবে। একই সাথে পুলিশ যাতে কেবলমাত্র সমাজের অপরাধীদের ভীতির কারণ হয় সেই দায়িত্বই পালন করা হবে।
সাতীরার ২৫তম  পুলিশ সুপার হিসাবে বুধবার রাতে যোগদানের  কয়েক ঘন্টা পর এসপি সাজ্জাদুর রহমান  বৃহস্পতিবার বিকালে তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতমিনিময় কালে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশের দ্বারা হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশবাহিনী সতর্ক থাকবে। ‘পেন ইজ মাইটার দ্যান সোর্ড’ একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও সাংবাদিকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। মাদক  সন্ত্রাস  ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের  বর্তমান অবস্থান জিরো টলারেন্স জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের ক্রেতা বিক্রেতা এবং ব্যবহারকারী একই অপরাধে অপরাধী।
এ ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধের  ক্ষেত্রেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় বহন করে কেউ যাতে নিরীহ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক থাকবে।  এসব ঘটনার সাথে পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে তাও  কঠোর হস্তে দমন করা হবে’। তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
সাজ্জাদুর রহমান এর আগে  নীলফামারি জেলা, ময়মনসিংহ জেলা, মাগুরা জেলা , নারায়নগঞ্জ জেলা এবং সর্বশেষ ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের ডিবিতে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।  তিনি বিসিএস ২১ তম ব্যাচের সদস্য উল্লেখ করে  বলেন, ‘তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক’।
মতবিনিময় সভায়  খুব দ্রুত শহরে ট্রাফিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনা হবে মন্তব্য করে সাজ্জাদুর রহমান বলেন আগামি সাতদিন ধরে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকান্ডও সমন্বিত করা হবে। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এ সময় আলোচনায় উঠে আসে সাতক্ষীরায় কয়েকটি যুদ্ধাপরাধ মামলা, কয়েকজন জঙ্গির নিখোঁজ থাকার বিষয়, ঢাকায় র‌্যাব পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি মুকুল রানা, মতিয়ার রহমান , রোহান ইমতিয়াজের বাড়ি সাতক্ষীরায়, সুন্দরবনের জলদস্যুদের উৎপাত ও তাদের আত্মসমর্পন, সীমান্তে ভারতীয় গরুর খাটাল পরিচালনা। এ ছাড়াও সাংবাদিকেদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে পাটকেলঘাটা থানা এলাকা থেকে আটক তিন কেজি সোনার নেপথ্য তদন্ত কাহিনী, হরিন শিকার করে   এক  পুলিশ কর্মকর্তার  ফ্রিজে ৩৫ কেজি হরিনের মাংস রাখা, বিভিন্ন সময়ে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি ,
গাড়ি থামিয়ে বা ট্রাক আটকে পুলিশের চাঁদাবাজি, রাতে বহু জনকে আটক করে পরদিন আদালতে সামান্য কয়েকজনকে হাজির করা, যেকোনো ব্যক্তিকে ধরে তার পকেটে ফেনসিডিল ঢুকিয়ে দেওয়া , শহরের  বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ, মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা বহন, পুলিশ পরিচয়ে গ্রেফতারের পর ৩৫ দিন রেখে পরে আদালতে দুটি নাশকতার মামলা দেওয়া, সাতক্ষীরার এক দরিদ্র নারীর কাছ থেকে দফায় দফায় ঘুষ আদায়, সাতক্ষীরার লস্কর হত্যা, আলাউদ্দিন হত্যা, আলতাফ হত্যা এবং শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মতো পেছনের অনেক ঘটনাসহ নানা বিষয়। একই সাথে পুলিশের নানা সফলতার কথাও উঠে আসে। পুলিশ সুপার এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন তিনি স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে জনগনের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান।
বহু সাংবাদিকের সরব উপস্থিতিতে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে আবুল কালাম আজাদ ও আবদুল বারী। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সহ সভাপতি আবদুল ওয়াজেদ কচি, সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আগহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, গোলাম সরোয়ার, বরুণ ব্যানার্জি, আবুল কাসেম, হাফিজুর রহমান মাসুম, ফারুক মাহবুবুর রহমান, অসীম চক্রবর্তী, আহসানুর রহমান রাজীব প্রমুখ সাংবাদিক।  তারা জেলার নানা সমস্যা  তুলে ধরে এর প্রতিকার দাবি করেন ।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  কেএম আরিফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা  উপস্থিত  ছিলেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ