পায়রায় হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র

11
92

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রোববার নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও জার্মানির সিমেন্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হতে যাচ্ছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

নসরুল হামিদ বলেন, “সিমেন্স মহেশখালিতে আরো একটি সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে। এ বিষয়ে পিডিবির সঙ্গে শিগগিরই তাদের সমঝোতা সই হবে।”

বর্তমানে পায়রায় চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার; এর ২৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেই নতুন এ কেন্দ্রের জন্য ১০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম।

তিনি বলেন, “৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতিটি ৬০০ মেগাওয়াটের মোট ছয়টি ইউনিট হবে।”

“প্রকল্পটি খুবই দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশা করছি। আগামী জুনের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যাবে।”

খোরশেদুল আলম জানান, ২০২০ সালের জুনে ১২০০ মেগাওয়াট, একই বছরের ডিসেম্বরে আরো ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরের বছরের মধ্যেই বাকী ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে চলে আসবে।”

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পর্কে তিনি জানান, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন ও সিমেন্সের যৌথ মালিকানার এ প্রকল্পটিতে আড়াই বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

“এ অর্থের ৮০ শতাংশ আসবে ঋণ থেকে।”

কেন্দ্রটিতে আমদানি করা গ্যাসের যোগান দিতে একটি এলএনজি টার্মিনালও করা হবে বলে জানান তিনি।

জার্মানির প্রতিষ্ঠান সিমেন্স দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ভৌত অবকাঠামোসহ স্বাস্থ্য, শিল্পখাতে কাজ করে আসছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে পায়রা ও এর আশপাশে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেখানে একটি বন্দরও করা হয়েছে; যেটাকে গভীর সমুদ্র বন্দর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এছাড়া পায়রার আশেপাশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গেদে তোলারও কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (ক্যাপটিভসহ) ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে নয় হাজার ২৫৪ মেগাওয়াটের ৮৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকার বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দিকে নজর দিয়েছে। রূপপুরে দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া মহেশখালিতে একাধিক কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাগেরহাটে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দেশের অন্যান্য জায়গাতেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

পিডিবির হিসাবে, ২০২১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৮ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১২ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট ক্ষতার ৩৬টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। সাত হাজার ৩৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪১টি কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনাধীন রয়েছে নয় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি প্রকল্প।

11 COMMENTS