পারুলিয়ার জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়টির সরেজমিন তদন্তে সার্কেল এসপি।। স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ

0
248
স্টাফ রিপোর্টার:
দেবহাটার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঘের ব্যবসায়ী মৃত এনায়েত উল্লাহর ছেলে শেখ আবুল হোসেনের ক্রয়কৃত জমি মহামান্য উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে  জবরদখলের প্রচেষ্টায় লিপ্ত মৃত লালু চরণের ছেলে তপন বিশ্বাস কর্তৃক অব্যাহত ষড়যন্ত্র,একাধিকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী,ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িয়ে উষ্কানীমূলোক-কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার,মিথ্যা সংবাদ প্রকাশসহ নানা অপচেষ্টার ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট চরম বিরোধপূর্ণ বিষয়টি সুষ্ঠ সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বৃহঃবার বিকালে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দীন। এ সময় পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের বিরোধপূর্ণ উক্ত তফশিল সম্পত্তি অর্থাৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শন,মালিকানার নথি ও বিষয়টি নিয়ে আদালতে চলমান উভয়পক্ষের মামলার বিচারকার্য বা অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং স্থানীয়দের দেয়া তথ্য ও মতামত গ্রহণ শেষে উচ্চ আদালতে দেয়া বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ মোতাবেক ক্রয় সূত্রের মালিকানা ও ভোগদখলকারী আবুল হোসেনের দখল বজায় রাখার পাশাপাশি আদালতে চলমান মামলার বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত  জবরদখলের অপচেষ্টা-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তপন বিশ্বাস সহ তার দলবলকে এধরনের কর্মকাণ্ড তথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি সেখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামাল হোসেনকেও নির্দেশনা দেন সহকারী পুলিশ সুপার। তাছাড়া তদন্তকালে জমির বর্তমান ভোগদখলকারী ও মালিক শেখ আবুল হোসেন উক্ত সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাগজপত্রাদি উপস্থাপন করেন এবং প্রতিপক্ষ তপন বিশ্বাস বারবার মৌখিক দাবী জানালেও মালিকানা সংক্রান্ত তার স্বপক্ষে তেমন কোন জোরালো বা সুস্পষ্ট নথি তদন্তকালীন সর্বসম্মূখে উপস্থাপন করেননি জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও উপস্থিত স্থানীয়রা।
জমির মালিক আবুল হোসেন বলেন,১৯৯৭ সালের ৭ মে পারুলিয়ার মৃত লালু চরণের ছেলে তপনের কাছ থেকে পারুলিয়া মৌজার ৩০২৭ নং খতিয়ানের হাল ৮৪৮১ দাগের ওই ৪ শতক জমি কোবলা দলিল (নং ৯৪৩) মূলে ক্রয় করেন তিনি। ক্রয় পরবর্তী তপন বিশ্বাস মাফ জরিপ করে উক্ত জমির দখল তাকে (আবুল হোসেন) বুঝে দিলে দোকানঘর হিসেবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন তিনি। কিন্তু সুচতুর তপন বিশ্বাস সংখ্যালঘুর দোহাই দিয়ে বিক্রয়কৃত ওই জমি থেকে তাকে উচ্ছেদসহ জোরপূর্বক পুনরায় দখলে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সহ বিভিন্ন স্থানে মালিক আবুল হোসেন ও তার পরিবারের লোকজনদের নামে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার বিচারকার্যে আদালত উক্ত তফসীল জমির শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ দিলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি শালিস বৈঠকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হলেও কিছুদিনেই মধ্যেই মালিক আবুল হোসেন সহ তার লোকজনদের বিরুদ্ধে আবারো সাতক্ষীরা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন তপন বিশ্বাস। একপর্যায়ে ক্রয়কৃত সম্পত্তি রক্ষার্থে ২০১৫ সালে তিনিও সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা (নং ৯৩) দায়ের করেন। চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর আদালত তার (আবুল হোসেন) পক্ষে মামলাটির রায় প্রদান সহ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তপন বিশ্বাসকে উক্ত জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন । পরে তপন বিশ্বাস উচ্চ আদালতে আপীল করলে মহামান্য আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। কিন্তু তপন বিশ্বাস উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে সম্প্রতি আবারো জোর পূর্বক ওই জমি দখলে নিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে হয়রানী,ক্ষমতাসীন সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িয়ে উস্কানিমূলক-কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার,পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশসহ অদ্যাবধি সীমাহীন নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করার পাশাপাশি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি মালিকানার ভিত্তিতে বর্তমানের ন্যায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল এবং মামলাবাজ তপনের ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পেতে পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতাও চেয়েছেন জমির মালিক ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ও তার পরিবার|
ব্যাপারে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কাজী কামাল হোসেন বলেন ,ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।  আগে থেকে উচ্চ আদালতের নিশেধাঙ্গা থাকায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার কথা বলেছি।