পাটকেলঘাটায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল ওজনে কম ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

0
98

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি :
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)’র বিরুদ্ধে চলমান খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল সরবরাহে ওজনে কম দেয়া সহ ঘুষ বানিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ডিলাররা যেমন বিপাকে পড়ছেন তেমনি উপকারভোগী হতদরিদ্ররা নির্ধারিত ওজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সরকারের নেয়া যুগান্তকারী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা ভিত্তিক ‘‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’’ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১২ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমের হতদরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত পূর্বক ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। সে মোতাবেক প্রতিটি ডিলারদের বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য (ডেলিভারি অর্ডার) সরবরাহ আদেশ নিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত অফিস সহায়ক (পিয়ন) সুধাংশুকে কার্ড প্রতি ১০ টাকা এবং টন প্রতি ১’শ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এদিকে পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তৈয়েবুর রহমান কে টন প্রতি ৪’শ টাকা, দারোয়ান মোস্তাফিজ কে টন প্রতি ৫০ টাকা ঘুষ দিয়ে চাল উত্তোলন করতে হয়, এমন অভিযোগ ভূক্তভোগী ডিলারদের। এছাড়া গুদামে কর্মরত শ্রমিকদের টন প্রতি দেড়’শ টাকা না দিলে চাল ডেলিভারি হয় না। খেশরা ইউনিয়নে নিয়োগকৃত ডিলার আবুল কালাম’র অভিযোগ খাদ্য বিভাগে ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিয়ে চাল উত্তোলন করে বিতরণের পর ৫ কার্ডে ১’শ ৫০ কেজি চাল কম পড়েছে। অবশেষে তিনি বাড়ির আতপ চাল দিয়ে কমপড়া ৫ কার্ডের উপকারভোগীদের পুরণ করেছেন। তেতুলিয়া ইউনিয়নের ডিলার আসাদুল ইসলামের অভিযোগ তার বরাদ্দকৃত ৬২০ কার্ডে চাল উত্তোলন করতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে ৭ হাজার, দারোয়ানকে ১’হাজার ৫’শ এবং শ্রমিকদের ২ হাজার ৫’শ টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু চাল বিতরণের পর তার ৭ কার্ডে ২১০ কেজি চাল কম পড়ায় বাড়ির চাল দিয়ে পুরণ করতে হয়েছে। এদিকে মাগুরা ইউনিয়নের নিয়োগকৃত ডিলার মোস্তফা পাড়ের অভিযোগ তার ৫০৯ কার্ডে বরাদ্দকৃত ১৫.২৭৫ মেঃ টন চাল উত্তোলনের সময় দুর্নিতিবাজ ওসিএলএসডির সঙ্গে অনেক বাকবিতন্ডার পর নগদ ৩ হাজার দারোয়ানকে ৫’শ এবং শ্রমিকদের ২২’শ টাকা দিতে হয়েছে। তার অভিযোগ চাল বিতরণের পর ৮ টি কার্ডে ২৪০ কেজি চাল কম হয়েছে। শেষে বাজার থেকে কিনে তা পুরণ করতে হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধান করে জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহের সময় মিল মালিকদের কাছ থেকে বস্তা সহ সাড়ে ৫০ কেজি চাল নেয়া হলেও ডিলার বা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জনপ্রতিনিধিদের কাছে ডেলিভারির সময় সাড়ে ৫১ কেজি আবার ৫২ কেজিও ওজন দেখিয়ে দেয়া হয়। ডিলারদের অভিযোগ সব বস্তায় ৫০ কেজি চাল পাওয়া যায় না। অথচ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ১ থেকে দেড় কেজি চাল ওজন বেশি দেখিয়ে ডেলিভারির মাধ্যমে অব্যাহতভাবে দূর্নিতি করে আসছেন। বর্তমান সরকার ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা দিতে ‘‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী’’র অধীন ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ কার্যক্রম যখনই চালু করেছে তখনই পাটকেলঘাটার খাদ্য গুদামের দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তা একের পর এক ঘুষ দুুর্নিতি অব্যাহত রেখেছেন। তার নানাবিধ দূর্নিতির কারণে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী ভেস্তে যেতে পারে এমন মন্তব্য ভূক্তভোগীদের। দূর্নিতিপরায়ণ এ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বোরো মৌসূমে ধান ও গম সংগ্রহে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে গুটি কয়েক চোরাই সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ বঞ্চিত কৃষকদের। যা আগামী সংখ্যায় তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ঘুষ দুর্নিতির বিষয়ে অভিযুক্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অনিয়ম দূর্নিতির কথা অস্বীকার করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কার্যালয়ে কর্মরত অফিস সহায়কের ঘুষ বানিজ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তবে কোনো তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস.এম মফিদুল ইসলাম/একে/আই।

LEAVE A REPLY