পাটকেলঘাটায় আইন না মেনে ভাটা নির্মাণ কাজ চলছে- দেখার কেউ নেই

0
119

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি:

পাটকেলঘাটা খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একেবারে পাশে কুমিরা চারাবটতলা নামক স্থানে চলছে ভাটা নির্মাণ কাজ। এতে জলাবদ্ধ অঞ্চল হলেও বছরের সমানে ৩ ফসলি ক্ষেত সর্বস্বান্ত করায় গাছ-গাছালি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিরুপ প্রভাব দেখা দেবে। এতে সকল আইন কানুন না মেনে  ভাটা নির্মাণ কাজ চলমান রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশেই ধানকাটা ফসলি জমিতে স্কেভেটর (বেকু) দ্বারা মাটি কেটে পাহাড় সমান স্তুপ তৈরি করছে। স্কেভেটর মেশিনের চর্তুপাশ জুড়ে ছিল তাল গাছ, মেহগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছা-গাছালি। জানা যায়, ধীরে ধীরে সেগুলো বিলুপ্ত করে ভাটা সক্রিয় করা হবে। জলাবদ্ধ এ অঞ্চলে বছরের ৬ টি মাস প্লাবিত থাকলেও ৬ বিঘার নামে গড়তে থাকা ৩০ বিঘা জমির ডিড নিয়ে এ জমিটিতে বছরের ৩ টি ফসল ফলাতে সক্ষম হন জমির মালিক ও বর্গাচাষীরা। কিছুদিন আগেও ক্ষেতভরা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন তারা। জমিটির পাশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা দেখা মেলে। স্থানটিতে সম্পূর্ণরুপে ভাটা নির্মাণ করতে গিয়ে আশপাশের উচু জমি কেটে মাটি আনলে এ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভয়াবহ রুপ নেবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুযায়ী এলজিইডি রাস্তা ও হাইওয়ে সড়কের পাশে কোনো ভাটা নির্মাণের ছাড়পত্র দেয়ার অনুমতি না থাকলেও অদৃশ্য শক্তিতে ভাটা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মের বেড়াজালে সাতক্ষীরার বেশ কিছু ভাটা আজও ছাড়পত্র না পাওয়ায় বন্ধ রয়েছে। অথচ সাতক্ষীরা ভাটা মালিক মোজাম মোল্ল্যাকে পুজি করে স্থানীয় থানার মাহামুদপুর গ্রামের শেখ জাকারিয়া, রাঢ়ীপাড়া গ্রামের গ্রামের ভাটা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরে শুধুমাত্র আবেদনে সীমাবদ্ধ রেখে ছাড়পত্র ছাড়াই ভাটা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে স্থানীয় কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে লিজকৃত জমির ডিড গ্রহণ মোজাম মোল্ল্যার নামে করলেও বাকি কাগজপত্রাদি শেখ জাকারিয়ার নামে। জমির মালিক মৃত আকের মালির ছেলে আব্দুর রশিদ, আরিকুল ইসলাম জানান, এখানে ভাটা নির্মিত হলে আমাদের আশপাশের ফসল ফলানো আদৌ সম্ভব হবে না। মৃত নজির মোড়লের ছেলে রেজাউল করিম, আবুল খালেক সরদারের ছেলে আব্দুস সোবহান বলেন, আমরা সকলে মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জমি ও ফসল বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অতিদ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে শেখ জাকারিয়া জানান, ভাটা নির্মাণ তো ফসলি জমিতেই হয়ে থাকে। এখানে ভাটা নির্মিত হলে তো কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আজিজুল ইসলাম জানান, প্রথমে জাকারিয়া তার নিজ নামে ট্রেড লাইসেন্স নিলেও জানামতে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামবাসী চাইলে সেখানে ভাটা নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। আমার সকল মতামত ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসেন জানান, বকশিয়ায় ভাটা নির্মাণ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস.এম মফিদুল ইসলাম

LEAVE A REPLY