পাইকগাছায় দো-ফসলি আমের ভাল ফলন হয়েছে: আম দেখতে উৎসুক জনতার ভীড়

0
31

গাজী মোঃ আব্দুল আলীম:

পাইকগাছায় বারোমাসি জাতের আমের ভাল ফলন হয়েছে। অসময়ের আম দেখতে ভাল লাগে। গাছে পল্ববে পল্ববে আম ঝুলছে। অসময়ের আম দেখতে কৌতুহলী মানুষরা ভীড় করছে। পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের আকতারুল গাজীর আম বাগানে দো-ফসলি জাতের আম ধরেছে। বাগানে প্রায় ১৫টি, ১০ থেকে ১৫ ফুট উচু গাছ রয়েছে। দোফসলি জাতের আমের সব ডালে একই সময় মুকুল বের হয় না। মৌসুমে যে সকল ডালে আম ধরে অসময়ে সে ডালে আমের ফলন হয় না। অর্থাৎ মাঘ-ফাল্গুনে মৌসুমে মুকুল ধরে, আর আষাঢ়-শ্রাবণে নতুন করে মুকুল বের হয় দো-ফসলি জাতের। যা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পাঁকা শুরু হয়। আকতারুল গাজী জানান, তার গদাইপুরে শিল্পী নার্সারীতে অন্যান্য ফলদ, বৃক্ষ ও ঔষধী গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির  নার্সারীর কলম উৎপাদন করেন। তিনি ঢাকা ফলদ বৃক্ষমেলা থেকে দো-ফসলি জাতের আমের কলম ক্রয় করে নিজের নার্সারীতে রোপন করেন। এই জাতকে বাবুল জাতের আম বলে তিনি জানান। ৩ থেকে ৪ বছর আগে ৩টি চারা থেকে তার নার্সারীতে প্রায় ১৫টি আম গাছের বাগান গড়ে তুলেছে। এ সকল গাছ থেকে কলম করে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। নার্সারীতে উৎপাদিত ২ থেকে ৫ ফুট উচু চারা রয়েছে। ২ ফুট চারা ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও ৪ থেকে ৫ ফুট উচু চারা দেড়শত থেকে ২শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ এসব চারাই আমের ফলন হয়েছে। আকতারুল জানান, নার্সারীতে ক্রেতারা আশার পর অসময়ে আম দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়ে আমের চারা কিনছে। প্রথম বছরে তিনি ৫০টি চারা উৎপাদন করে, পরবর্তী বছর এসে প্রায় দেড়শত চারা উৎপাদন করেছে। যা এ বছর বিক্রি হচ্ছে। তার ক্ষেতে দো-ফসলি জাতের আমের ফলন দেখে এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ জাতের আম পাকলে খেতে মিষ্টি ও সু-স্বাদু। তিনি এ বছর আমের কলম ও আম থেকে প্রায় দেড়লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্থানীয় কিছু জাতের আম গাছে অসময়ে কিছু কিছু মুকুল বের হয় এবং আমও ধরে। প্রতি বছর মুকুল বের হয় না। মাঝে মধ্যে দু’একটি গাছে মুকুল হয়। তবে রাবি-২ জাতের আমের ফলন মৌসুম থেকে আরো প্রায় ২ মাস পর্যন্ত গাছে সংরক্ষণ করা যায়। আকতারুলের নার্সারীর উৎপাদিত আম এলাকার কৃষিতে আশা জাগিয়েছে।

LEAVE A REPLY