পাইকগাছায় চাঁদখালী ইউনিয়নের মৌখালী কমিউনিটি হাসপাতালের বেহাল দশা

0
34
গাজী মোঃ: আব্দুল আলীমঃ
প্রাপ্ত তথ্য ও সূত্র থেকে জানা যায় যে ১৯৯৮ সালে মৌখালী গ্রামে কমিউনিটি হাসপাতালটি ০.০৭ একর জায়গার উপর নির্মিত হয়। জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারি ভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণর, পরিত্যক্ত ,অচল এবং যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা।প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণীতে জানাযায়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার অভিযোগ জানানো  সত্ত্বেও ভবনটি সংস্কারে কেউ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারিনি। ফলে এ হাসপাতালে কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। হাসপাতালের বর্তমান সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান জানান হাসপাতালটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। ০.০৭ একর জমি জনাব আফসার মোল্ল্যা এ ভবনটির জন্য দান করেছিলেন। বর্তমানে সে জায়গাও অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী জমির মালিক অলি সরদার বেদখলের চেষ্টা করছেন। স্বাস্থ্য কর্মীরা কখনও কখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনটিতে রোগী দেখছেন আবার কখনও পার্শ্ববর্তী লোকমান সাহেবের বাড়িতে বসে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০/৫০ জন রোগী স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে থাকেন, এর মধ্যে ৪/৫ জন গর্ভবতী মায়েদের সংখ্যাও থাকে যাদেরকে ২৮ দিন পর পর টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালটির ভবন সমস্যা,ওষুধের অপ্রতুলতা,স্বাস্থ্য কর্মীর স্বল্পতা(পরিবার পরিকল্পনা),রোগীর চাপ বেশী, হাসপাতালটির এই জরাজীর্ণ  দশা ও নানাবিধ সমস্যার কথা জানিয়ে উপজেলা প প কর্মকর্তা বরাবর বহুবার অভিযোগ জানানোর সত্ত্বেও তিনি এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। সি এইচ সি পি কর্মী মমতাজ বেগম জানান , হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ইউপি চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি কিনা কোন ইতি বাচক পদক্ষেপ কেউ গ্রহণ করেনি। যে কারণে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রোগীরাসব দারিদ্র, বিনাপয়সায় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়। বিদুৎ লাইন থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধ না করার কাড়নে সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন,পানি সমস্যা,স্যানিটেশন সমস্যা ,টয়লেট সমস্যা,টেবিল চেয়ার নেই,রক্ত পরীক্ষা,কফ পরীক্ষা,ডায়াবেটিস পরীক্ষা,প্রসার পরীক্ষা,পেসার মাফা,উচ্চ রক্তচাপ সহ এমিনেটাল চেকআপ গর্ভ অবস্থায় চার বার দেওয়া হয়। পোষ্ট নেটাল চেকআপ দেওয়া হয় এছাড়া জটিল সমস্যা জনিত গর্ভবতী মায়েদের এ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সকল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পাঠানো হয়।  প্রায় ৩ মাস আগে উপজেলা প প কর্মকর্তা একবার এ হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে ছিলেন। সব সমস্যার কথা তাকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও তিনি বলেন উপর থেকে বরাদ্দ না দিলে আমার কিছু করার নাই।  হাসপাতালের সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন গড়েরাবাদ কমলাপুর ,হরিহর নগর,ঢেমসা খালী,ফেদুরাবাদ,মৌখালী,চরপাড়া,গাজীপাড়া, সকল গ্রামের রোগীরা এ হাসপাতালে আসেন। শুধু মাত্র ভবনটির জরাজীর্নতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অচিরেই এই পরিত্যক্ত ভবনটির সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ ও সরকারী জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থ্যা গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবর বহুবার আবেদন জানানোর সত্ত্বেও কেন উদ্যোগ গ্রহণে এই বিলম্বিত? যে কারনে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি ,কবে হবে  এ সমস্যার অবসান? জানতে চেয়েছেন  এ অঞ্চলের সচেতন মহল। কতৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন কি?