পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি

0
235

বরুণ ব্যানার্জী :

বর্তমানে শহরে তো বটেই গ্রামের মানুষের কাছে ক’বছর আগে জনমনে উচ্চস্বরে আলোচিত বিষয় ছিল পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন ব্যাগ। সাধারণ মানুষের দাবির মুখে তার ব্যবহার বন্ধও হয়েছিল। কিন্তু ওই পলিথিন আজ আবার অনেকটা নীরবেই ফিরে এসেছে নতুনরূপে। পরিবেশ দূষণকারী উপাদান বিশেষ করে প্লাস্টিক দ্রব্য পচে না বলে এটা যে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তা প্রমাণিত ও সর্বজন স্বীকৃত। তাই জনগণের চাপে এবং পরিবেশের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ওপর আইন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওই বছরের ১ জানুয়ারি ঢাকা ও ১ মার্চ সারাদেশে পলিথিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে পলিথিন ব্যবহার করা হলেও এ আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। বর্তমানে নানা অজুহাতে এ পলিথিন আবারো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন দুপুরে অনেকের হাতেই এখন বাজারের উপাদান হিসেবে এ ব্যাগ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দোকানি বাজারের ব্যাগ হিসেবে এটাকে আবার ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তাহলে প্রশ্ন এ ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও তা আবারো আসছে কোথা থেকে? সরকার যদি এর বাজারজাত করা নিষিদ্ধে আইন করে থাকে তাহলে তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না কেন? বাংলাদেশ পলিপ্রোপাইল প্লাস্টিক রোল অ্যান্ড প্যাকেজিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,  প্রতিদিন শুধু রাজধানীতে ব্যবহৃত হচ্ছে ১ কোটি ৪০ লাখ পলিথিন ব্যাগ। হিসাব মতে, প্রতিমাসে ব্যবহার হচ্ছে ৪২ কোটি পলিথিন ব্যাগ। সারাদেশে যা ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী আকারে। নিষিদ্ধ পলিথিনে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তিন দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমাদের। পলিথিন উৎপাদনকারী এবং ব্যবহারকারী উভয়ই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকেন। বিশেষ করে যারা পলিথিন কারখানায় কাজ করে তাদের শরীরে ক্যানসারসহ বিভিন্ন চর্মরোগ এবং জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পলিথিন দিয়ে মোড়ানো মাছ, মাংস, শাক-সবজিসহ অন্য খাদ্যসামগ্রী খুব সহজেই ‘অ্যানায়রোবিক’ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। যা মানুষের চর্মরোগ ও ক্যানসারের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে পলিথিন তৈরিতে যে রং ব্যবহার করা হয় তাও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর পরিত্যক্ত পলিথিনে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেওয়া মশা-মাছি ডেঙ্গুজ্বর, ফাইলেরিয়া ও ম্যালেরিয়া ছড়ানোর জন্য অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে। কারণ সাময়িক সুখ লাভের জন্য আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারি না। ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের বিষয়টিকে মুখ্য না করে ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সরকারকে এ মুহূর্তে এক্ষেত্রে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কঠোর হওয়া এবং পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।