পলাশপোলে ফকরুলের জমি দখল চেষ্টা করছেন নাজমুল আরেফিন

0
277
 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
তার পৈত্রিক জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য নাজমুল আরেফিন বাবু লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে পায়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন পলাশপোলের ফকরুল আহমেদ খান সাগর। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একসংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তিনি।  ফকরুল আহমেদ বলেন শহরের পলাশপোল এলাকায় তার  দাদা  আলী আহমেদ খান ও আক্কাজ আহমেদ খান আপন দুই ভাই। পলাশপোল মৌজার ৬২০৮ ও ৬২০৯ দাগে ৩ একর ৯৮ শতক জমির মালিক তারা। তাদের মৃত্যুর পর দাদা আক্কাজ আহমেদ খানের ভাই আলী আহমেদ খানের ওয়ারেশরা সম্পুর্ণ জমি ভোগ দখল করতে থাকে। দাদার পুত্র ও কন্যাদের ফাঁকি দিয়ে উক্ত জমি মৃত আমের আলীর সহায়তায় অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে আক্কাজ আহমেদের ওয়ারেশরা (আমরা) তাদের জমি দখল গ্রহন করি। দখলের পর সেই জমি আমের আলী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আক্কাজ আহম্মদ খানের সমুদয় জমি বিক্রি করে দেয় এবং কিছু জমি তার নিজের নামে করে নেয়। আক্কাজ আলীর পুত্র  আবুল হোসেন খান আমার পিতা। তিনি আমাদের নাবালক অবস্থায় রেখে মৃত বরন করেন এবং আমার মা আমার বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে সেই সুযোগে আমার পিতার পৈত্রিক সম্পত্তি আমের আলী আহমেদ খানের ওয়ারেশদের সহায়তায় সকল জমি বিক্রি করে দেয়। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তিনি আরও বলেন গত ১৯২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী ৫৫৯ নং দলিলে জাবদান বিবি ক্রয় করেন। জাবদান বিবির কাছ থেকে আলী আহমদ খান, আক্কাজ আহমদ খান একই সালের ২৯ অক্টোবর ৩৯৫১ নং কোবলা দলিলে খরিদ করে। ২৬২৫ নং এস এ খতিয়ানে নিজ নামে রেকর্ড করেন। আক্কাজ আহমেদ খানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মৃত আবুল হোসেন খান গং ওই জমির আটানা অংশের মালিক হন। আবুল হোসেন খানের ফকরুল আহমদ খান সাগর ওয়ারেশ সুত্রে বর্তমান মালিক। এ দিকে ওই জমি মৃত আলী আহমদ খানের ওয়ারেশদের কাছ থেকে নামমাত্র মুল্যে ক্রয় করেন। আমীর আলীর উক্ত জমির উপর তাদের কোন অংশ নেই। বরং মৃত আমীর আলীর ওয়ারেশগণ তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে হয়রানি করছে। এমনকি মৃত আমের আলীর কতিথ কেয়ারটেকার নাজমুল আরেফিন বাবু ও সাইফুল ইসলাম। আমের আলীর ভাইপো সেজে গত ৮ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় আমাদের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগে আমের আলীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বলা হয় এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল আরেফিন বাবুর দরখস্তের আলোকে উভয় পক্ষকে কাগজ পত্র সহ গত ১০ নভেম্বর  থানায় হাজির হতে বললে আমরা থানায় হাজির হলেও আমের আলীর কথিত ভাইপো নাজমুল আরেফিন ও অন্যান্যরা থানায় হাজির হয় নি। এরপর নাজমুল আরেফিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী  গভীর রাতে ৭/৮ জন লোক মুখে ডাব বেধে আমার বাড়িতে যেয়ে আমার বসত ঘরের টিনের বেড়া খুলে ঘরে ঢুকে আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করলে টিন কাটার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে গেলে বাড়ির লোকজন উঠিয়া চিৎকার  দিলে নাজমুল আরেফিন সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দৌড়ে একটি মাহেন্দ্র গাড়ি যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় আমি একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এইভাবে নাজমুল আরেফিন সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা  প্রতিনিয়ত আমাদের সম্পত্তি দখল করার জন্য বারবার হামলা, মিথ্যা মামলা, আমাদের ঘর বাড়ি ভাংচুর ও বিভিন্ন ভাবে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেছে।  সংবাদ  সম্মেলনে ফকরুল বলেন আমের আলী একজন ভারতীয় নাগরিক হয়ে কিভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা হলেন? আমের আলীর সকল পরিবার পরিজন ভারতে বসবাস করে। তাহলে নাজমুল আরেফিন কিভাবে তার ভাইপো হলেন? সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা নামের তালিকায় কোথাও আমের আলীর নাম নেই। এই ভাবেই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নাজমুল আরেফিন  আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র সহ আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছে।  আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে যাহাতে আমরা সুস্থভাবে বসবাস ও ভোগ দখল করতে পারি ও এই সকল সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি সে জন্য  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়া পৈত্রিক সম্পত্তি ও জাল জালিয়াতির মুল হোতা নাজমুল আরেফিন বাবু সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।   –