‘পরিমাণে নয় মানেই জাতির পরিচয়’

0
110

মুনসুর রহমান: বিশ্বায়ন উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং সেই  ধারাবাহিকতায় শিক্ষা, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ও মানব সম্পদ উন্নয়নে অবদান অন্যান্য। তাই দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ বিভিন্নভাবে শিক্ষার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করে গেছেন। সেই থেকে পরবর্তী সকল যুগের চিন্তাবিদরাই শিক্ষা সম্পর্কে কথা বলেছেন। এবং শিক্ষার পরিচয় এবং সংজ্ঞা দেবার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা শিক্ষার তাৎপর্য এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে নিজ নিজ জাতির সামনে পেশ করেছেন। যেমন: কোনো বস্তুকে বুঝতে হলে তার উপাদান বিশ্লেষণ করে দেখা একান্ত জরুরি। ইংরেজি ভাষায় শিক্ষার প্রতিশব্দ হলো Education. Education শব্দের সাধারণ আভিধানিক অর্থ হলো : শিক্ষাদান ও প্রতিপালন, শিক্ষাদান, শিক্ষা। Educate মানে : to bring up and instruct, to teach, to train অর্থাৎ প্রতিপালন করা ও শিক্ষিত করিয়া তোলা, শিক্ষা দেওয়া, অভ্যাস করানো। ক. Joseph T. Shipley তাঁর Dictionary of word Origins এ লিখেছেন, Education শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Edex এবং Ducer-Duc শব্দগুলো থেকে। এ শব্দগুলোর শাব্দিক অর্থ হলো, যথাক্রমে বের করা, পথ প্রদর্শন করা। আরেকটু ব্যাপক অর্থে তথ্য সংগ্রহ করে দেয়া এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে দেয়া। একজন শিক্ষাবিদ লিখেছেন, Education শব্দের বুৎপত্তি অনুযায়ী শিক্ষা হলো শিক্ষার্থীর মধ্যকার ঘুমন্ত প্রতিভা বা সম্ভবনার পথ নির্দেশক। খ. আরেকজন শিক্ষাবিদ লিখেছেন : Education denotes the realization of innate human potentialities of individuals through the accumulation of knowledge. কিন্ডার গার্টেন পদ্ধতির উদ্ভাবক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ফ্রোয়েবেল বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য ও পবিত্র জীবনের উপলব্ধি। আর পার্কার বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ মানুষের আত্ম প্রকাশের জন্যে যেসব গুনাবলী নিয়ে শিক্ষার্থী এ পৃথিবীতে আগমন করেছে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সেসব গুনাবলীর যথাযথ বিকাশ সাধন। জীবনের একটা উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আছে শিক্ষার্থীদের। সমস্যাবলী নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার একটা প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের আছে। মানুষ যা কিছু দেখে, শুনে এবং জানে, সেটাকে সে নিজের অভ্যন্তরীণ মৌলিক চিন্তা ও ধ্যান ধারণার সাথে সামঞ্জস্যশীল করে নেয়। অতপর সেই চিন্তা ও ধ্যান ধারণার ভিত্তিতেই তার জীবন পদ্ধতি গড়ে উঠে। এই জীবন পদ্ধতিই হলো সংস্কৃতি। যে জাতি একটা স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, আকিদা বিশ্বাস ও উদ্দেশ্য লক্ষ্যর অধিকারী এবং যাদের রয়েছে নিজস্ব জীবনাদর্শ, তাদেরকে অবশ্য তাদের নতুন প্রজন্মকে সেই স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও জীবনাদর্শের রক্ষণাবেক্ষণ এবং তার বিকাশ ও উন্নয়নের যোগ্য করে গড়ে তোলা কর্তব্য। আর সে উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু নদীবেষ্টিত দূর্যোগ কবলিত,বন্যা, খরা, নদী ভাঙ্গন ও শৈত প্রবাহ এই এলাকার মানুষকে  প্রতিনিয়ত করছে সর্বশান্ত এবং দূর্দশাগ্রস্থ। অনুরূপভাবে জীবন জীবিকাকে করছে বাঁধাগ্রস্থ। এই এলাকার মানুষ নূন্যতম চাহিদা পূরণে প্রায় দিশেহারা। এ অবস্থায় অতিদরিদ্র পরিবারের শিশুদের মানসম্মত লেখাপড়া এবং তা নিয়মিতকরণ একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

আমরা জানি যে, যত ভালো শিক্ষার্থীই হোক না কেন- সে বা তার অভিভাবক নিঃসন্দেহে কখনই বলতে পারবেন না, তার বা তাদের সন্তানরা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করবে। তার শোচনীয় অবস্থাটি আমাদের চিন্তার বাইরে। মানসিক এবং শারীরিক যে চাপ তার ওপর পরে সেটা কল্পনাতীত। এইভাবেই চলে আসছে আমাদের পরীক্ষার মাধ্যম। পৃথিবীজুড়ে এখন চিন্তাধারায় পরিবর্তন হচ্ছে। এখন সবাই সার্টিফিকেটের শিক্ষার চেয়ে মানুষের জ্ঞানের পরিধি কতটুকু তা দেখে। দেখা হয় কে কতটুকু জানে। তার মানে এই নয় সার্টিফিকেট মূল্যহীন। সার্টিফিকেটের দরকার আছে। তবে তার সঙ্গে সঙ্গে জানতেও হবে। ‘পরিমাণে নয় মানেই জাতির পরিচয়’ আমরা পরিমাণ বাড়ানোর চেয়ে মান বাড়ানোর দিকে জোর দেবো সেটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

 

LEAVE A REPLY