পরিবেশের ক্রমাবনতির ফলে মানুষের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন

2
237

বরুণ ব্যানার্জী:

পরিবেশ সংরক্ষণ এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। মানুষ প্রকৃতির কাছে সুখ-সমৃদ্ধি খোঁজে। ফলে মানুষ পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রকৃতির আপন মহিমায় গড়ে উঠা স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মানুষ সেখানে যায়। আকৃষ্ট হয় বনভূমির প্রতি। এসব সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাকৃতিক এলাকার স্বকীয়তা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় আমরা অধিক মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের এই প্রিয় দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করা সকলের দায়িত্ব রয়েছে। প্রকৃতি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বের পরিবেশ হুমকির মধ্যে রয়েছে। পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সকলকে পরিবেশ সচেতন হতে হবে। সংরক্ষণ করতে হবে প্রকৃতিকে। না হয় প্রকৃতি আত্মহত্যা করবে। বর্তমানে প্রকৃতির প্রতিশোধের খেলা শুরু হয়েছে। তার প্রমাণ ঘন ঘন ভূমিকম্প, খরা ও ঘূর্ণিঝড়।  আরো কতোদিন বিরূপ পরিবেশের কাছে শিকার হবো। অথচ পৃথিবীর পরিবেশ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবেশের ক্রমাবনতির ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। মানুষ পরিবেশকে নানাভাবে ধ্বংস করা নিয়ে অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছে। বনের গাছ কাটছে, জলাশয় ভরাট করছে, পাহাড় কাটছে। যেখানে সেখানে ফেলছে বর্জ্য। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, এদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে প্রতিদিন তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এ বর্জ্যরে মিশ্রণে রয়েছে গ্যাসীয়, কঠিন, তরল ও বায়বীয় বর্জ্য। এ সব বর্জ্য গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দুষণ, স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি, ক্যান্সার সৃষ্টি এবং গাছপালার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এসব দূষণের কারণে ওজোন স্তর ধবংস হচ্ছে। দেশে বর্তমানে যে বনাঞ্চল আছে তা সংরক্ষিত নয়। বনে মানুষের যাতায়াত ও অবস্থান বেড়েছে। আর দেশের অধিকাংশ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন নয়। উদ্ভিদ থেকে আমার খাবার ও অক্সিজেন পাই। মানুষ নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান কমে গিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। গাড়ির কালো ধোঁয়া বাতাসকে করছে বিষাক্ত। নি:শ্বাসের সাথে সেই বিষ শরীরে ঢুকে আমাদের প্রাণ নিচ্ছে। পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। সবুজ-শ্যামলিমা পরিণত হচ্ছে মরুভূমিতে। অসময়ে হচ্ছে বন্যা ও খরা। আমাদেরকে পরিবেশ বাঁচাতে হবে। পরিবেশ বাঁচানোর মূলে রয়েছে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা। নির্বিচারে গাছ-পাহাড় কাটা বন্ধের ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে পরিবেশ আমাদের মা। তাকে রক্ষা করতে হবে। কেননা পরিবেশই সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখে। বাঁচার সব উপকরণ পরিবেশ আমাদেরকে দেয়। নির্মল পরিবেশকে যারা বিনষ্ট করছে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। এ-সব মানুষ অপরাধ করছে। তাদের প্রতি হোক আমাদের অসীম ঘৃণা। পরিবেশ নষ্টকারী এসব মানুষের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন গড়ে তোলা চাই। এলাকায় এলাকায় পরিবেশ ক্লাব গঠন করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

 

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY