পরিকল্পিত ব্যাবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব

0
272

বরুণ ব্যানার্জী :

নদী ও জলাভূমির দেশ বাংলাদেশ। এটি আমাদের দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য হাওর ও জলাভূমি। নদী, হাওর এবং জলাভূমির কথা বিবেচনায় এনে বড় রকমের পরিকল্পনা ও গবেষণা খুব একটা হয়নি। হলেও সংশ্লিষ্ট মহল তাদের ভাবনায় আনেনি। আমাদের নদী, হাওর-জলাভূমিকে কেন্দ্র্র করে কৃষির বিকাশ, উন্নয়ন ও সম্প্র্রসারণে তেমন বড় কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অথচ এদেশের কৃষি, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং ওইসব অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও পথচলার অনেকটাই নির্ভর করে নদী, হাওর ও জলাভূমিকে ঘিরেই। এসব অঞ্চলের রয়েছে বিপুল কৃষি ও পর্যটনে উন্নয়ন সম্ভাবনা। অথচ গুরুত্ব বিবেচনায় আশাপ্রদ তেমন কাজ হয়নি। এ কারণে এসব অঞ্চলে মৎস্য ও কৃষিই জীবনযাপনের প্রধান উৎস বিবেচিত হলেও উন্নয়নের জন্য তেমন পরিকল্পিত পদক্ষেপ অনুপস্থিত। শুধু হাওর নয়, সারাদেশই এখন পর্যন্ত নির্ভর করছে কৃষির ওপর। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিতে প্রভূত উন্নতি হলেও উপেক্ষিত হাওর অঞ্চল। এসব অঞ্চলে জমিকে তিন ফসলিতে পরিণত করার উদ্যোগ অপরিহার্য।হাওরের মতো বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি সেই মান্ধাতার আমলে পড়ে আছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে। এখনো এ অঞ্চলের জমি এক ফসলি হয়ে আছে। প্রকৃতিনির্ভর কৃষিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন করে উন্নততর কৃষি ব্যবস্থা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি হাওর, জলাভূমি ও নদীকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প বিকাশেও দরকার পরিকল্পনা। পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যেতে পারলে আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আগাম বর্ষণের ফলে পানি যাতে মূল হাওরের বাইরে কৃষিজমিতে প্রবেশ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে ড্রেজিং করা হলে মূল হাওরের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে মূল হাওরের পানি যাতে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে, সেজন্য নদী খনন ও সংযোগ খাল তৈরির বিষয়টি ভাবা দরকার। হাওরাঞ্চলে সরিষা, শিম, বরবটি, মরিচ ও বেগুন প্রভৃতি চাষ করা যেতে পারে। বাস্তবে এ অঞ্চলে পালং শাক, লাল শাক, মুলাসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। হাওরের প্রতিটি গ্রামের অনাবাদি জমি ব্যবহার করা যায়। সেসব জমিতে হয় ঢোল কলমি, না হয় শুধু আগাছা জন্মে আছে। এসব জমি চাষের উপযোগী করে শিম, বরবটি, মরিচ, বেগুন, পালং শাক, লাল শাক, মুলা, পুঁই শাকসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা যেতে পারে। মাচান দিয়েও অনেক সবজি জন্মানো যেতে পারে। হাওরাঞ্চলে বসতবাড়ির চারপাশে বিভিন্ন কাঠের গাছ, বাঁশ ও কলাগাছ রোপণ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ঝড়ের সময় হাওরের পানি থেকে গ্রাম ও বাড়িগুলোকে রক্ষা করতে এসব লাগানো গাছের সবুজ বেষ্টনী বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তাছাড়া কাঠ, বাঁশ ও কলা বিক্রি করে বাসিন্দারা লাভবান হতে পারেন। দেশের হাওর হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, যশোর বি.বাড়িয়া প্রভৃতি জেলার কৃষি, অর্থনৈতিক এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন। পাশাপাশি দিতে হবে এসব অঞ্চলের মানুষকে অবস্থার সঙ্গে খাপখাইয়ে চলার ও জীবনযাত্রা নির্বাহে প্রশিক্ষণ, আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। তবেই দেশের হাওরের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এসব অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল সম্ভব। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হলে লাভবান হবে এসব অঞ্চলের মানুষ। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি, কৃষি ও পর্যটনশিল্প।