পদ্মাবতী নিয়ে প্রতিবাদ তুঙ্গে, ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার দাবি

5
79
চিতোরের রানি পদ্মাবতীকে নিয়ে সঞ্জয় লীলা বনসালি পরিচালিত ‘পদ্মাবতী’ ছবিটি মুক্তির আগেই পড়েছে প্রতিবাদের মুখে৷ অভিযোগ, পদ্মাবতীর চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে অশালীনভাবে, যা রাজপুত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে আঘাত করেছে৷
রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে চিতোরের রানি ছিলেন পদ্মাবতী৷ কোথাও কোথাও পদ্মীনী, কোথাও আবার তিনি উল্লেখিত পদ্মামণি নামে৷ এই ঐতিহাসিক নারী চরিত্রকে নিয়ে কাহিনি চিত্র বানিয়েছেন বলিউডের বিতর্কিত চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালি৷ ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি৷ মুক্তি পাবার কথা ১লা ডিসেম্বর৷ কিন্তু মুক্তির আগেই বাধা আসছে একের পর এক৷ অভিযোগ, ছবিতে রানি পদ্মাবতীর চরিত্রটিকে নাকি তুলে ধরা হয়েছে অশালীনভাবে, যা রাজস্থানের রাজপুত সমাজ তা মেনে নিতে পারে না৷ রানি পদ্মাবতী তাঁদের কাছে মহীয়সী নারী৷ রাজপুত হিন্দু নারীদর কাছে আদর্শ এক চরিত্র৷ এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দীপিকা পাডুকোন আর আলাউদ্দিন খিলজীর চরিত্রে রণবীর সিং৷
এই বিতর্কিত ছবির মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করতে রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন৷ কিন্তু শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে রায় দিয়েছেন, ছবিটিকে মুক্তি ছাড়পত্র দেওয়া হবে কিনা সেটা কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডই ঠিক করবে৷ ছবির মুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট নির্দেশিকা আছে সেন্সর বোর্ডের হাতে৷
সেন্সর বোর্ডের এক বিজেপি সদস্য ছবির পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিত অনুরোধ করেছেন৷ স্থগিতাদেশ জারির পক্ষে আবেদনকারীদের যুক্তি, ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে দীপিকা পাডুকোনকে দিয়ে ঘুমরা বা ঠুমকা, যাকে বলে কোমর দোলানো নাচ, তা দেখানো হয়েছে৷ এছাড়া রানিকে যে ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ পরানো হয়েছে, তা নাকি রাজপুত নারী সমাজের কাছে অকল্পনীয় এবং রাজপুত নারীর জীবন পরম্পরার একেবারে বিপরীত৷ রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদ্মাবতীর মুক্তির আগে ছবিটির কথিত আপত্তিকর দৃশ্যগুলি বিচার করতে এক কমিটি গঠনের কথা তাঁর সরকার চিন্তা করছেন৷ কমিটিতে থাকবেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদরা৷ পদ্মাবতী ছবির প্রযোজককে তাই কেন্দ্রীয় সেন্সর বোর্ডের কাছে ছবিটির মুক্তির আবেদন করতে হবে৷
প্রশ্ন হচ্ছে, আপত্তিটা ঠিক কোথায়? নাচের দৃশ্য ছাড়াও ছবিতে আছে একটা স্বপ্নের দৃশ্য৷ যেখানে চিতোর দুর্গ দখলকারী দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে পদ্মাবতীর একটি ঘনিষ্ট, রোম্যান্টিক দৃশ্য রয়েছে৷ রাজস্থানের রক্ষণশীল রাজপুত সমাজ এতেই ক্ষুব্ধ৷ কারণ রাজপুত কুলপ্রথায় কোনো রাজা তাঁর স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষ, বিশেষ করে কোনো মুসলিম পুরুষের সামনে আনবে, এ কথা ভাবাই যায় না৷ এমনটাই বলেছেন জওহর স্মৃতি সংগঠন নামে এক এজিওর মুখপাত্র৷ তিনি বলেন, ইতিহাস বলছে, বর্হিশত্রুর আক্রমণের সময় রাজপুত রাজবংশের নারীরা নিজেদের মানসম্মান ও সতীত্ব বাঁচাতে জওহর ব্রত পালন করে আগুণে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিতেও দ্বিধা করেননি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সব কথা ‘পোস্ট’ করার পর তা ভাইরাল হয়ে পড়লে এর সমর্থনে এগিয়ে আসে আরও অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন৷ যার মধ্যে আছে রাজস্থানের রাজপুত ক্রান্তি সেনাও৷ তারা শুটিংর সময় ছবির সেটে ভাঙচুর চালায়, চড়াও হয় পরিচালক বনসালির ওপরও৷

5 COMMENTS