নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন আ’লীগ নেতা লেনিন

0
2079
নিজস্ব প্রতিনিধি:
আমার নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শফিউল আজম লেনিন নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকধারীকে হারানোর জন্য সব ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন। রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত  এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত আওয়ামী লীগ মনোনীত  প্রার্থী রবিউল ইসলাম।

নির্বাচনে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তিনি আরও বলেন,  গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শফিউল আজম লেনিন তার ভগ্নীপতি যুবদল নেতা আবিয়ার রহমানের  মনোনয়নের জন্য সুপািরশ ও তদবির করেছিলেন। কিন্তু  আওয়ামী লীগ  তাকে না দিয়ে মনোনয়ন দেয় আমাকে। এতে লেনিন ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে ও আমার নৌকাকে হারানোর জন্য চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, আবিয়ার রহমান এক সময় ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি থাকায় দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। আর এই ব্যর্থতার কারণে লেনিন  নৌকা ঠেকাতে সরাসরি বিএনপি দলীয় প্রার্থী জিএম মাসুদুল আলমের পক্ষ নেন বলে বিএনপির জিএম মাসুদুল আলম এ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে জানতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও গাবুরার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আজম লেনিনের  সাথে তার  ০১৭১৫২৯২২৬৪ নম্বরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব থেকে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

ইউপি আওয়ামী লীগের  সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম আরও বলেন, এর আগে গাবুরা ইউপি নির্বাচনে  গাজী পরিবার অথবা গাইন পরিবার থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুই পরিবারের বাইরে আর কাউকে তারা চেয়ারম্যান হতে দিতে চান না। রাজনৈতিক  আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই ভিন্ন মতাদর্শের  দুই পরিবার এবারও এক হয়ে নৌকা প্রতীককে হারালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৮ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে শপথ করেন আওয়ামী লীগের নেতা লেনিন ও যুবদলের আবিয়ারসহ বিএনপির লোকজন। তিনি তার সকল অনুসারী ও অন্যান্যদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এর আগে তার জীবন নাশের হুমকি দেওয়ায় পুলিশ আমিরুল ইসলাম নামের এক যুবককে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।

সংবাদ সম্মেলনে  রবিউল ইসলাম আরও বলেন আওয়ামী লীগ নেতা লেনিনের বাড়ির ভোটকেন্দ্র  জিএলএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে  ১৮৮৩ ভোটের মধ্যে নৌকা  পেয়েছে মাত্র ২৮ ভোট। এসব সম্ভব হয়েছে লেনিনের আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারনার কারণে।

রবিউল ইসলাম বলেন ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ফেরার পথে আমার সমর্থক নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষন করা  হয়। এ বিষয়ে আমি দলের নেতাদের সাথে পরামর্শ করে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করি।  কিন্তু মামলাটি রেকর্ড না হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর মেইল পাঠাই। পরে মামলাটি রেকর্ড হয়। লেনিনের প্রভাবের কারণে ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মহসিন আলমের কেন্দ্রে নৌকা ৪৯ ভোট এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল বারীর কেন্দ্রে নৌকা ২৬ ভোট পায়। এভাবে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম লেনিন জোটবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতীককে হারাতে মাঠে নামেন। নৌকা হারাতে লেনিনের এই ভূমিকা নিন্দনীয় ও দলের জন্য আত্মঘাতি উল্লেখ  করে রবিউল ইসলাম বলেন তিনি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির উত্থানে গাঁট বেঁধে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল ইসলাম তার পরাজয়ের কারণ জনগনের সামনে তুলে ধরার আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা শেখ ফারুক হোসেন ও মো. খায়রুল ইসলাম।