নিরীহ মানুষেদের হত্যা করার অধিকার কারোই নেই : প্রধানমন্ত্রী

0
46

অনলাইন ডেস্কঃ

ধর্মের নামে কেউ যেন অহেতুক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার হজ্জক্যাম্প থেকে হজ্জ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি লোক ভ্রান্ত পথে থাকার কারণে গোটা মুসলিম উম্মাহ বিপদের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। যা আমাদের দেশে হতে দেবো না। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের নবী সব সময় এই কথাই বলে গেছেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রী হজ্জ যাত্রীদের আরও বলেন, নিরীহ মানুষেদের হত্যা করার অধিকার কারোই নেই। কারণ শেষ বিচার করবেন আল্লাহ। তারা আল্লার ওপরে কেনো আস্থা রাখতে পারেন না। তার ওপরে কেনো বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। তাছাড়া আত্মঘাতী হওয়ার কথাতো কখনই ইসলাম বলে না। তাই আমরা চাই না বাংলাদেশ এই ধরণের এই ধরণের ভ্রান্তির পথে যায়। এই ব্যাপারে আপনারা হজ্জে গিয়ে দোয়া করবেন। যাতে বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে ধর্ম নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। আমরা যার যার ধর্ম নিয়ে যাতে ভাল থাকি এই দোয় টুকুই করবেন। হজ্জক্যাম্পের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর সরকার গঠন করেন। এর পরে ক্ষমতায় এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে বায়তুল কোমাররম মসজিদ থেকে শুরু করে নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন করি। তারাই ধারাবাহিকতায় আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, প্রতিটি উপজেলার এবং জেলায়। মডেল মসজিদ ও ইসলামীক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করবো। যেখানে প্রকৃত ইসলামের ধ্যান-ধারণাটা মানুষ নিতে পারে তার ব্যবস্থা করবো। এই মসজিদগুলো একই রকম একই  হবে বলে আমি ঠিক করে দিয়েছি। এখানে প্রায় ৫৬০ টি মসজিদ করবো বলে সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে অনুমোদ হয়েগেছে। এছাড়াও আমরা যখন ৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। তারাই ধারাবাহিকতায় আমরা মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করি। যেখানে সকল বাচ্চারা যায় কোরান পড়ে এবং প্রাথমিক শিক্ষাটি ওখানেই দেওয়া হয়। এমনকি বাচ্চাদের পাশাপশি বয়স্ক নিরক্ষর মানুষও  অক্ষরজ্ঞান নিচ্ছেন। কিন্তু কষ্টের বিষয় এই সকল কাজও বিএনপি এসে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এটা আবার আমরা চালু করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে একটা সরকার কাজ শুর করে দিয়ে গেলে পরবর্তী সরকার এসে সেইসব কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আওয়ামীলীগ তা কখনো করে নাই। কিন্তু ২০০১ সালে যখন বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসে তখন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে দেয়। যা আল্লাহর রহমাতে আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে এইসকল কাজ চালু করে দেই। যা এখন আপনার নিশ্চই দেখেছেন বাইতুল মোকাররম মসজিদকে আমরা অনেক উন্নত করে দিয়েছি। সেই সাথে সাথে আমরা কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতে মূলধারর শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে এবং তারা যাতে বড় চাকরি করে জীবনযাপন করতে পারে সেই সুযোগটাও আমরা করে দিয়েছি। এবারে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংক্ষক হাজী হজ্জ করতে যাচ্ছেন। যেখানে ২০০৬ সালে অর্থাৎ বিএনপি সরকারের আমলে হজাযাত্রী ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯শ’ ৮৩ জন। আর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে হজ্জযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারে হজ্জে যাচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১শ’ ৯৮ জন।

LEAVE A REPLY