নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই: খালেদা

0
43
ডেস্ক রিপোর্ট:
সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন চান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আমরা দেশে গণতন্ত্র চাই, বহুদলীয় গণতন্ত্র চাই। সকলের অংশগ্রহণে যাতে দেশে একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হয় আমরা সেটি চাই। আর সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তা না হলে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।
গতকাল শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসনের কার্যালয়ে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠান খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ওই নির্বাচনে কজন লোক গিয়েছিল ভোট দিতে? যদি সত্যিকার নির্বাচনই হয় তাহলে কী করে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন? এখন তারা চায় আবারও সেই রকমভাবে নির্বাচন করতে।
বিএনপিকে দুর্বল করার সরকারের দমননীতির কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মাদক বাণিজ্য এখন সরকারি দলের লোকেরা করছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিশেষ করে যুবসমাজকে ধ্বংস করার কাজ করছে তারা।
ধরাও পড়ছে তারা, কিন্তু তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। দেশ আজকে অনাচারে ভরে গেছে।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশ অন্ধকার একটা সময় অতিক্রম করছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে সকল ধর্মের মানুষকে, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের জন্য এক হতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, গাইবান্ধায় সরকারি দলের লোকেরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। এ রকম বহু ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা, আর দোষ দেয় বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার অন্যায়-অত্যাচার করেছে বিএনপিকে দুর্বল করতে। আমি যেদিন আদালতে যাই; আমার সঙ্গে ছেলে-মেয়েরা থাকে। তাদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলা করে, গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তারপর মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে নেয়।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই দেশ আমাদের সকলের। আপনারা খ্রিস্টান হতে পারেন কিন্তু আমরা সকলে মিলে দেশটাকে গড়ব। সকলে মিলে কাজ করলে অনেক সুন্দর করতে পারব। বড়দিন ও নববর্ষে আমরা প্রত্যাশা করব আগামী বছরে গণতন্ত্র ফিরবে; শান্তি ফিরে আসবে।
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গোমেজ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সুব্রত উইলিয়াম রোজারিও প্রমুখ বক্তব্য দেন।