না ফেরার দেশে দেবহাটার নৌ-কমান্ডো খলিলুর রহমান

0
96
দেবহাটা প্রতিনিধি:
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, নৌ-কমান্ডো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক নৌকমান্ডো মো. খলিলুর রহমান। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা গ্রামে মৃত আয়জুদ্দিন বিশ্বাস এর ছেলে । ১৯৫০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাতশালা গ্রামের সভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। নৌ-কমান্ডো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক মো. খলিলুর রহমান দেবহাটার টাউন শ্রীপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি, খুলনা বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি, বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তিনি নৌকমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজেউন)। মরহুমের ছোট জামাতা শেখ মামুন উর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।  তিনি আরও জানান, ১৯৭৩ সালে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান ব্যাংকার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি চাকরি ছাড়েন। এরপর যোগদান বহুজাতিক টোবাকো কোম্পানিতে। ১৯৯০ সালে তিনি কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন। ঝুকে পড়েন লেখালেখিতে। একাধারে লিখে যান মুক্তিযুদ্ধের গবেষণামুলক ৯টি গ্রন্থ। তার মধ্যে- মুক্তিযুদ্ধের নৌ-অভিযান এবং যুদ্ধে যুদ্ধ স্বাধীনতা গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন লিভার ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন মো. খলিলুর রহমান। ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর  তিনি স্টোকে আক্রান্ত হন। এর পর ভর্তি হন ঢাকার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (বুধবার) ঢাকার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে তার মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন-সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মোশারাফ হোসেন মশু, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক আবু রায়হান তিতু, সদস্য সচিব লায়লা পারভীন সেঁজুতিসহ সংগঠনটির সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।