দেশের মানুষ হেয় হয় এমন কাজ আমাকে দিয়ে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

0
96

অনলাইন ডেস্ক:

আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। সর্বশেষ পদ্মা সেতু নিয়েও একটি শ্রেণি নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপা তারা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের সম্মানহানি হয়, দেশের মানুষ হেয় হয়, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কাজ আমাকে ও আমার পরিবারকে দিয়ে হবে না। এ বিশ্বাস আপনারা আমার ওপর রাখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এরা (বিএনপি) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। এরা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কীভাবে উপলব্ধি করবে। এদের মন তো স্বাধীন বাংলাদেশে নেই, এদের মন পড়ে থাকে হাজার মাইল দূরের পেয়ারের পাকিস্তানে। এ কারণেই শহীদ মিনারে কোথায় ফুল দিতে হয় তা জানে না। যারা (বিএনপি-জামায়াত) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, তাদের কাছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের কোনো মূল্য থাকতে পারে না। দলের নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ মেনে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, দেশ যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীন হয়েছে, সেই আদর্শ সবাইকে ধারণ করে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়। বরং দেশ ও দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম সেটিই বড় কথা। শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালিরা যে সব কিছুই করতে পারে তা প্রমাণ করেছি। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি, খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলেছি। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না, বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাওয়া যাবে না। জবাবে বলেছিলাম, আপনারা (খালেদা জিয়া) তো দেশ চালাননি। দেশের কঙ্কালসার মানুষকে দেখিয়ে নিজেদের পকেটে ভরেছেন। আপনারা ভিক্ষুকের সর্দার ছিলেন, জনগণের নয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানের মিথ্যাচারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার বীভৎসতা দেশে-বিদেশের সবাই জানে। এ দেশীয় কিছু মানুষ নিয়ে রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী গঠন করে তাদের সহায়তায় সারাদেশেই পাক হানাদাররা গণহত্যা চালিয়েছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, মা-বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, পাকিস্তানের সুরে সুরে বিএনপি নেত্রীও শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। যুদ্ধ করে দেশকে বিজয়ী করার জাতি। তবে জাতির দুর্ভাগ্য, ’৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারীরা বাঙালি জাতিকে বিশ্বের কাছে ভিক্ষুকের জাতি জানিয়ে ভিক্ষা এনে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, তারা নিজেরা কিছু করতে পারে না, শুধু ভিক্ষা করে খায়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপিকা মেরিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণ একটি কবিতা পাঠ করে শোনান। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সব ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।