দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরার নলতায়

0
411

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা দরবার শরীফে। রমজানের এক মাস ধরেই চলবে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন। প্রতিদিন একসাথে ইফতার করেন প্রায় ৬ হাজার মুসল্লী। ইফতারি বিলি-বন্টনের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ৪ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয় এখানে। ৬ হাজার মুসল্লী রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে বিশাল ছাউনির নিচে একসাথে ইফতার করেন। বাকি ৪ হাজার মানুষের ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়। নেই ধনী গরীবের ব্যবধান। ভেদাভেদ ভুলে দূর-দূরন্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্য রোজাদাররা ছুটে আসেন এখানে। কালিগজ্ঞের নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় ও নলতা শরীফের খাদেম আলহাজ¦ আনছার উদ্দিন আহমমেদ তত্বাবধানে এই বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় প্রতিবছর। তিনি বলেন, ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নলতা শরীফ রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি নির্মান করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে।satkhira ifter (4) প্রথম দিকে মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন হজরত শাহ্ ছুফী আলহাজ্জ¦ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রাহ.)। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এ ইফতার মাহফিল অব্যাহত রেখেছে। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরে হলেও বর্তমানে এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে এখন ১০ হাজারে পৌছেছে। কর্তৃপক্ষ করেন, পবিত্র মক্কা শরীফের পর এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতার মাহফিলের আয়োজন।  প্রতিদিন ১২ মণ দুধ দিয়ে তৈরি ফিন্নি, সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম, ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিঙাড়া ও চিড়ার ব্যবস্থা করা হয় জানিয়ে বাবুচ্চির কাজে নিয়োজিত বাবু হোসেন জানান, আমি প্রতি বছরই এখানে রান্নার কাজ করি। রোজাদারদের খেদমতের কাজ করতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত হই।  বছর বছর ইফতার আয়োজনের পরিধি আরো বাড়ছে জানিয়ে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের ট্রেজারার মো. ইফনুস ও হিসাব রক্ষক এবাদুল হক বলেন, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবী ও ইতেকাফ উপলক্ষ্যে নলতা রওজা শরীফে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাঁশ-খঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। প্রতিদিন ইফতারিতে ব্যায় করা হয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
যারা এখনো নলতা দরবার শরীফে ইফতারীতে অংশ নেননি তাদের অংশগ্রহণের আহব্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সদস্য মালেকুজ্জামান বলেন, নতুন মসজিদটা নির্মাণের কাজ চলছে সেখানে একত্রে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমান অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। এখানে কেউ এসে যেন খালি মুখে ফিরে না যায়, কষ্ট না পায় সেজন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

এম এম রায়হান