দেবহাটায় চোরাই ঘাট দিয়ে আসছে নিম্ন মানের গলদা রেনু ধ্বংসে পথে মৎস্য শিল্প

0
298

মোঃ আরিফুল ইসলাম:

দেবহাটার কুলিয়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় নিম্ন মানের গলদা রেনুর রমরমা ব্যবসা। ধ্বংসের পথে দেশীয় মৎস্য শিল্প। আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে অসাধু সেন্টিগেট। নিরব ভুমিকায় প্রশাসন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা নব-বর্ষের শুরুতেই এই সেন্টিগেট চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এই রেনু ব্যবসায়। চক্রটি সীমান্ত চোরাই ঘাট ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে আমদানী করে নিম্ন মানের গল্দা রেনু। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলে তাদের এ ব্যবসা। প্রতি দিন ভারতের গঙ্গা, মেদিনীপুর, চেন্নাই ও মাদ্রাজ সহ বিভিন্ন এলাকার হ্যাচারীর লক্ষ লক্ষ নিম্ন মানের গলদা রেনু পলিব্যাগ (পলিথিনব্যাগ) চোরাই পথে নিয়ে আসে কোমরপুর, শাখরা, নিমতলা এলাকায়। সেখান থেকে প্রাইভেট, মাইক্রো ও টমটম যোগে চলে আসে কুলিয়া মৎস্য সেডে। সেখানে আসলেই পাচিং’র নামে ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম তার সহযোগী গয়েশপুরের আনারুল, তেঘরিয়ার ফজর আলী, ভোমরার আনারুল ও ল্যাগেজ রেজাউল, শাখরার মোকসেদ, সবুজ ও কবির সেন্টিগেট প্রতিদিন পলিব্যাগ প্রতি ৮ শ’ হারে টাকা নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা। এ চোরাই ঘাট পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সদর উপজেলার নাথপাড়া এলাকায় বিজিবি হত্যার অন্যতম আসামী পারুলিয়া কোমরপুর এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম, বিজিবি ম্যানেজ করার দায়িত্বে আছে, আনারুল ইসলাম, থানা ও ডিবি ম্যানেজ করার দায়িত্বে আছে, মোকসেদ, মৎস্য সেড থেকে টাকা উঠানোর দায়িত্বে আছে, কুলিয়া বালিয়া ডাঙ্গার মহম্বত আলীর ছেলে আরিফ ও পূর্ব কুলিয়ার তুহিন। কুলিয়ার সেড থেকে নিম্ন মানের ভারতীয় গলদা কিনে ক্ষতিগ্রহস্ত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার গলদা চাষীরা। এই অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের মৎস্য চাষকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অপর দিকে গলদা চাষীরা দেশীও রেনু কিনতে এসে প্রতি নিয়ত ঠকছে কুলিয়ায় অবস্থিত গলদা রেনু এজেন্টদের হাতে। এসব এজেন্টরা ভারতীয় রেনু দেশীয় নদীর নাম করে বিক্রয় করছে অনায়াসে। এতে করে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ গল্দা চাষীরা, অন্য দিকে তেমনি সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। আর এর মধ্য দিয়ে জিরো থেকে হিরো হয়ে যাচ্ছে অনেকে। যাদের এক সময় নুন আনতে পানতা ফুরাত তারা এই সেন্টিগেটের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গাড়ী, বাড়ী, ব্যাংক-ব্যালেন্স সহ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। এ চক্রের প্রতিদিনের আয় কয়েক লক্ষ টাকা। খুলনা, যশোর, মনিরামপুর, ফকিরহাট, বাগেরহাট, দাকোপ, কাটাখালি, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, নওয়াপাড়া সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রেনু ক্রেতারা জানান, গত বছর কুলিয়া থেকে বাংলাদেশের নদীর রেনু বলে যে রেনু ক্রয় করেছিলাম তা আদৌ দেশী রেনু ছিল না। যে কারণে আমারা অর্থীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এ ব্যপারে স্থানীয় কয়েক জন কমিশন এজেন্টরা জানান, প্রতি পলিতে ৪ থেকে ৫ হাজার রেনু থাকে যা কুলিয়া পর্যন্ত আনতে পাচিং খরচ দিতে হচ্ছে ৮ শ’ টাকা। এ টাকা নাকি প্রশাসনের সর্বাস্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে প্রয়োজন হয়। সেন্টিগেটের হোতা আনারুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমরা কোন কৈফিয়াত দিব না। আমরা প্রশাসকে ম্যানেজ করে এ কাজ করি। এ ব্যপারে দেবহাটার টাউনশ্রীপুর কোম্পানী সদর বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের ফোনটি একজন সৈনিক রিসিভ করে বলেন স্যার স্বাক্ষ্য দিতে বাইরে গেছে। এ বিষয় দেবহাটা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুরজ্জামান বলেন, ভারত থেকে যে মাছের রেনু আসে তা আমার জানা নেই। এ ব্যপারে জানার জন্য নীলডুমুর ১৭ বিজিবি’র অধিনায়কের ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। ভুক্ত ভোগীরা জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

LEAVE A REPLY