দুদুকের মামলায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার গ্রেফতার

2
3590

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস থেকে সাত কোটির ও বেশি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী আত্মসাৎ করার অভিযোগে সদর হাসপাতালের স্টোর কিপারকে গ্রেফতার করেছে দুদক। রোববার সকাল ১০টার দিকে সিলিভ সার্জন অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার স্টোর কিপার কেএম ফজলুল হক শ্যামনগর উপজেলার ইছাকুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। বর্তমানে শহরের মধুমল্লারডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দ। দুর্ণীতি দমন কমিশন খুলনা শাখার উপ পরিচালক মো: আবুল হোসেন জানান, ন্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল-২  অধিশাখা বাংলাদেশ সচিবালয় ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে সাত কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৫ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী সাতক্ষীরার সকল উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেয়। ওই বছরের ৮ আগষ্ট ওইসব মালামাল সাতক্ষীরা সিভিল সার্জেন্ট অফিসকে দেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ইনডেন্ট প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ি সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর কিপার কেএম ফজুলুল হক) মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপার ওই মালামাল নিজে স্বাক্ষর করে বুঝে নেন।

satkhira duduk (1)ওই সময় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হিসিবে ডাঃ সালেহ আহম্মেদ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি ডাঃ উৎপল কুমার দেবনাথ সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন। তিনি ওইসব মালামাল যথাযথভাবে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে কেএম ফজলুল হকের অনিয়মের গন্ধ পান।২১ মার্চ তিনি এ সংক্রান্ত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। ডাঃ আরিফ আহম্মেদ, ডাঃ আবুল হোসেন ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নূর আহম্মেদ মাসুমকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়। গত বছরের ১৯ মে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তের সাত কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৫ টাকার মালামাল কেএম ফজলুল হক আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রমাণিত হয়।যেহেতু ডাঃ সালেহ আহম্মেদ সিভিল সার্জনের দায়িত্বে ছিলেন সে কারণে তার বিরুদ্ধে ওই মালামাল আত্মসাতের সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মদ বলেন, দুদকের খুলনা বিভাগীয় সহকারি পরিচালক মহাতাব উদ্দিন বাদি হয়ে রোববার থানায় দূর্ণীতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

2 COMMENTS