দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের কাজ করতে হবে

2
274

বরুণ ব্যানার্জী:

 সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। এমন কথা আমরা সবাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শোকসভায় প্রায়ই বলে থাকি। যাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই তারাও বলি, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আবার যাদের অনেক কিছু করার ক্ষমতা আছে তারাও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে থাকেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পরিসংখ্যান না দিয়েও নির্দ্বিধায় বলা যায়, দিন দিন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ঠিকই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেউ সক্রিয় প্রতিরোধের ব্যাপারে এগিয়ে আসেন না। কেবল শোকসভায় শোকার্ত কণ্ঠে চিৎকার করেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকরী উপায় বের করতে হবে।অনেকেই বলে থাকেন, আমাদের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় এক নৈরাজ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ কর্তৃপক্ষের কথা শুনছেন না কিংবা প্রণীত আইনও মানছেন না। যে যেমনভাবে পারেন গাড়িঘোড়া নিয়ে রাস্তায় চলছেন। দায়িত্ববোধ থেকে কেউ কাজ করতে চান না। এখন অভিযোগ করা হয় অদক্ষ লোকদের গাড়ি চালাবার অনুমতিপত্র কর্তৃপক্ষ দিয়ে থাকে। যাদের শিক্ষা-দীক্ষার অভাব তারাও পেয়ে যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোনো ধরনের দায়িত্বশীলতার বালাই নেই। যে দুদিন আগে ছিল গাড়ির হেলপার চার দিন পরে সে হয়ে যায় গাড়ির লাইসেন্সধারী ড্রাইভার। কেউ জিজ্ঞেসও করেন না যে, লোকটা দুদিন আগে গাড়ির হেলপার ছিল, সে কী করে চারদিন পর বাস, ট্রাক, মিনিবাস, টেম্পোসহ বিভিন্ন ছোট-বড় গাড়িঘোড়া চালাবার অনুমতিপত্র পেয়ে যায়। দুদিন আগে যে লোকটি গাড়ির হেলপার ছিল সে যদি চারদিন পর ছোট, বড়, মাঝারি ধরনের গাড়ি চালাবার ছাড়পত্র সংগ্রহ করে ফেলে তাহলে তো সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বেই। বড় বড় সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমাদের প্রতিনিয়তই একটির পর একটি শোকসভা করে যেতে হবে। আমরা যতই চিৎকার করি না কেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ কর, বন্ধ কর বলে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা আর বন্ধ হবে না।

অনেক মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে। শুধু যে মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পঙ্গু হয় তা নয়, অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যাদের সংখ্যা অর্থাৎ এই অপমৃত্যুর সংখ্যা আজ শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। যাদের ভাগ্য ভালো থাকে তারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বেঁচে যায়। তবে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রকৃত চালকদের অবশ্যই কর্তব্য হলো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো। গাড়ির গতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অবশ্যই গাড়ি চালাতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তবে এখানে আরেকটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, অনেক সময় ধৈর্যহীন যাত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রীদেরও একটা দায়দায়িত্ব রয়ে গেছে, যা ভুললে চলবে না।

 

2 COMMENTS

  1. Hey I am so thrilled I found your weblog, I really found you by error, while I was searching on Digg for something else, Anyhow I am here now and would just like to say cheers for a tremendous post and a all round exciting blog (I also love the theme/design), I don’t have time to read through it all at the minute but I have book-marked it and also added your RSS feeds, so when I have time I will be back to read a lot more, Please do keep up the excellent work.