দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঈদকে সামনে রেখে মাদক চক্র সক্রিয়

0
102

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির :

ঈদকে সামনে রেখে মাদক চক্র সক্রিয়  মোবাইল কলের মাধ্যমে এসে যায় মাদকের বড় বড় চালান। এখন আর মাদক আনতে মোকামে যেতে হয়না। বিকাশের মাধ্যমে মাদকের টাকা লেন-দেন হয়ে থাকে। মাদক ব্যবসায়ীরা মোবাইলে কল করে বিভিন্ন স্পটে মাদক সেবীদের কাছে পৌছে দেয়। আর এজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রয়েছে শতাধিক ভাসমান মাদক বিক্রিতা। বিভিন্ন নামের এ মরণ নেশার  মাদকের মধ্যে রয়েছে, ইয়াবা, ফেন্সেডিল, গাঁজা ও ঝাঁকুনি।  মাদকের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নির্ঘুম অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ বিক্রেতা ও সেবনকারীরা গ্রেফতার হলেও বরাবরই গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটসহ  ১০ জেলাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বিক্রেতা ও সেবনকারীরা গ্রেফতার হলেও বরাবরই গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তারাও কয়েকদিনের ব্যবধানে জেল থেকে বেরিয়ে পূর্ণরায় এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক প্রতিরোধে আশানুরূপ সুফল পাচ্ছেন না। সূত্রমতে, প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটসহ  ১০ জেলার এর মধ্যে বাগেরহাট, খুলনা,  সাতক্ষীরা, যশোরে, ঝিনাইদ মাগুরায়, কুষ্টিয়ায়, চুয়াডাঙ্গায়, নড়াইলে  ও মেহেরপুরে ১০৪৩টি  চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আসন্ন ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের চোখ এরাতে এবার বিক্রির কৌশল পরিবর্তন করেছে ব্যবসায়ীরা। নদী বেষ্টিত জেলার সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট উপজেলায় অনায়াসে মাদক আমদানি করতে পারে মাদক সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা। জেলার নাম করা মাদক ব্যবসায়ীরা জেলহাজতে থাকলেও থেমে নেই তাদের ব্যাবসা। নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করায় প্রশাসন রয়েছে অন্ধকারে। ইতোমধ্যে অনেক নারী মাদক ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে মোটরসাইকেলযোগে মাদক এখন হোম ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে মাদক বিক্রিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে প্রশাসনের খবর পৌঁছে দেয়ার জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা সব সময় স্টেশন পাহারায় রাখছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ইয়াবা ও মাদক কারবারে জড়িতরা ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। ঈদকে সামনে রেখে ওইসব সিন্ডিকেট চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নদী ঘেরা জেলার সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদী পথে মাদক আমদানি শুরু করতে পারে। বিশেষ অনুসন্ধান ও প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নতুন মাদক বিক্রেতাদের অধিকাংশরাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মরন নেশার এ ব্যবসা করে আসছে। ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদের বেলায়ও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রমতে, মিয়ানমার থেকে নদী পথে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান আসে নদী বেষ্টিত সাতক্ষীরায় খুলনা ও বাগেরহাট উপজেলার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত  গ্রামে বিক্রেতা অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কতিপয় অসাধু অফিসারকে মাসোয়ারা দিয়ে মাদক বিক্রেতা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে মহাদাপটের সাথে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য একটি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক সময়ের চরপন্থি থেকে শুরু করে পেশাগত অপরাধীরা যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তাদের অধিকাংশরা গত কয়েক বছরে ইয়াবার ব্যবসা ও বহন করে এখন লাখ লাখ টাকা গুনছে। মাদকের ডিলাররা লাখ পেরিয়ে এখন নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পরেছে। সূত্রমতে, দামি মোটরসাইকেল, চেহারায় কালো চশমা লাগিয়ে ওইসব মাদক ডিলাররা সম্মানিত লোকজনদের ‘কুচ পরোয়া নেহি’ ভাব দেখিয়ে ইয়াবার বদৌলতে এখন রঙিন জীবন পার করায় সামাজিক শৃঙ্খলা, আচার ব্যবস্থায় চরম অশান্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এক সময়ের পেশাগত চরমপন্থি ও অপরাধীরা যারা অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন পার করতো তারা ইয়াবার ব্যবসা করে কাড়িকাড়ি টাকার মালিক হওয়ায় এলাকায় সামাজিক বিচার ব্যবস্থায়ও তারা আধিপত্য বিস্তার করে রাখছে। এ ব্যাপারে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অভিযান চালাতে সকল থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY