তৈরি পোশাক শিল্প প্রণোদনা না দিলে ফোড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে

0
144

বরুণ ব্যানার্জী :

তৈরি পোশাক শিল্প খাত সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক বাজার দখলের কৌশলে বাংলাদেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। এদিকে, পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে নতুন করে ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর সঙ্গে ফোড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত শুল্ক নামের বাড়তি চাপ। বর্তমানে বাংলাদেশকে পোশাকপণ্যে শুল্ক দিতে হয় ১৫ শতাংশ। কিন্তু সীমান্ত শুল্ক আরোপ করা হলে তা গিয়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে, যদিও এই শুল্ক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের উপরও প্রযোজ্য হবে বলে নির্বাচনী প্রচারণায় ঘোষণা ছিল ট্রাম্পের।এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, গত দুই বছরে শ্রমিক মজুরি বেড়েছে ৩২ শতাংশ, বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে ১৫ শতাংশ, গ্যাস ১০ শতাংশ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ, সর্বসাকুল্যে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ। তিনি আরো বলেছেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অন্য দেশগুলো তাদের উদ্যোক্তাদের নানামুখী প্রণোদনা দিচ্ছে। ডলার ও ইউরোপের সঙ্গে নিজেদের মুদ্রামান সমন্বয় করছে। কিন্তু এ দেশে তারা এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।আগামীতে যে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শিল্প, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশ্নে সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে এই শিল্পের পাশে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামোতে।