প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিবেশী বন্ধুর মতো সম্পর্ক চান মোদি

0
16
ডি এস ডেস্ক:
প্রতিবেশী দেশের নেতাদের মধ্যে প্রতিবেশীর বন্ধুর মতোই সম্পর্ক থাকাই উচিত বলে মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে কলকাতা-খুলনা ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেস ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক সূচনার সময় এই মন্তব্য করেছেন মোদি।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে প্রতিবেশী বন্ধুর মতো সম্পর্ক হওয়া উচিত।  এক্ষেত্রে যখনই ইচ্ছা হবে তখনই কথা বলবো বা দেখা করবো, সাক্ষাৎ করবো।  ” সাক্ষাৎ বা দেখা করার বিষয়টি প্রোটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
এদিন দিল্লি থেকে মোদি যখন এই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন ঠিক তখনই অন্যপ্রান্তে ঢাকা থেকে এই কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সচিবালয় নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও দেশটির জাতীয় উপদেষ্টা অজিত দোভালকে পাশে বসিয়ে প্রথমে বাংলায় বক্তব্য শুরু করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।  শেখ হাসিনা, মমতা ব্যানার্জি ও বাংলাদেশের মানুষকে নমস্কার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ শুভ উপলক্ষে দুই দেশবাসীদের আমার অভিনন্দন জানাই।  আজ আমাদের মৈত্রী ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় হল।
দুই দেশের কানেকটিভিটির ওপরে জোর দিয়ে মোদি বলেন, ‘কানেকটিভিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।  আর আজ আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার ট্রার্মিনাসে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যে পথ চলা শুরু হল, তাতে কলকাতা-খুলনার যাত্রীদের অনেক সুবিধা হবে।  এতে শুধুমাত্র অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার সুবিধা হবে তাই নয়, যাত্রার সময়ও তিন ঘন্টা কমে যাবে।
মোদি জানান, ‘আমরা যখন কানেকটিভিটির কথা বলি তখন আমার ১৯৬৫ সালের পূর্বের রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার কথা মনে পড়ে যায়।  আমার খুব আনন্দ লাগছে যে আমরা এই পথে এক পা করে সামনের দিক এগিয়ে যাচ্ছি।  আজ আমরা দুইটি রেলসেতুরও উদ্বোধন করেছি।  ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে নির্মীয়মাণ এই রেল সেতু তৈরির ফলে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।  তাঁর অভিমত বাংলাদেশের উন্নতিতে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসাবে তাদের পাশে থাকতে পারাটা ভারতের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতেও জোর দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।  তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে যে ঐতিহাসিক যোগাযোগ আছে তা আরও মজবুত করতে আজ আমরা কয়েক পা এগোলাম।  আমার বিশ্বাস যে যেভাবে আমরা দুই দেশ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবো এবং মানুষের মধ্যে আত্মীয়তা মজবুত করবো ঠিক সেভাবেই উন্নতি ও অগ্রগতির নতুন আকাশ ছুঁতে সফলতা লাভ করবো।
এই কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জিকেও অন্তর থেকে আহ্বান জানান মোদি।  বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদির আশা দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী ও বন্ধনের গতি আরও বাড়বে।
অন্যদিকে নবান্ন থেকে মমতা ব্যানার্জি এই ট্রেনের উদ্বোধনকে ভারত-বাংলাদেশের কাছে স্মরণীয় দিন হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, এতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।
এ উপলক্ষ্যে কলকাতার চিৎপুর আন্তর্জাতিক রেল টার্মিনালে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তৃণমূল সাংসদ ও রেলওয়ে বোর্ডের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, বিধায়ক মালা সাহা, কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, ভারত ও বাংলাদেশের রেলের কর্মকর্তারা।
তবে প্রথমদিন শুভেচ্ছা যাত্রা হিসেবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত চলবে ‘বন্ধন’ ট্রেনটি।  ট্রেনের যাত্রী হয়ে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও রেলের কর্মকর্তারা।  আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) ওই ট্রেনটি চলাচল করবে।
‘বন্ধন’এর যাত্রা শুরুর পাশাপাশি এদিন কলকাতা স্টেশনে ‘মৈত্রী’ ও ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সুবিধার জন্য অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার বিষয়টিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।  এর পাশাপাশি এদিনই বাংলাদেশে ভারতীয় অর্থায়নে দ্বিতীয় তিতাস ও ভৈরব দুইটি রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোদি-শেখ হাসিনা।

দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ