তার্কিস মুরগি পালন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মিজানুর

0
1006

এস এম পলাশ :
সাতক্ষীরায় তার্কিস মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে ২২ বছরের যুবক মিজানুর রহমান। শুধু তিনি নিজে নন বরং ঘুরে দাঁড়িয়েছে মিজানুরের পরিবার। অভাব অনটনে দিন চলতো দুই বছর আগেও। তার্কিজ মুরগি পালন করে বর্তমানে নির্মাণ করেছেন পাঁকা ঘর, কিনেছেন দুই বিঘা জমিও, বাবাকে কিনে দিয়েছেন একটি ইজিবাইক। সব মিলিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এই পরিবারটির গল্প তার্কিজ মুরগিকে ঘিরেই। এখন আর অভাব নেই এই পরিবারের। দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা রোজগার করছেন মিজানুর রহমান। এ মুরগি পালনে সহায়তা করেন মিজানুরের মা রেবেকা খাতুন। বাড়ির কাজকর্মের পাশাপাশি তিনি দেখাশুনা করেন মুরগি গুলো। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রাক্ষরাজপুর ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, দুই বছর আগে ঢাকার টঙ্গীর বাজার  থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া তার্কিজ মুরগি কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি। দুই মাস পালনের পর খুলনার এক ব্যবসায়ী এক জোড়া মুরগি ৮ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায়।  মিজানুর ও তার পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানো গল্পের শুরু এখান থেকেই। মিজানুর রহমান বলেন, এরপর আবার ঢাকার টঙ্গি থেকে মুরগি নিয়ে আসি। এরপর খুলনা ও যশোর থেকে ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। এক জোড়া বাচ্ছা দুই হাজার টাকায় কিনলে তিনমাস পরে তা ৮-১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতারা বাড়ীতে এসে নিয়ে যায়। বিক্রির জন্য কোথাও যেতে হয় না। ৬ মাস পর ডিম দেয়। একজোড়া ডিম বিক্রি হয় ৮শ টাকায়। এছাড়া মাংসও খাওয়া যায়। মুরগির রং হিসেবে দামও কমবেশী হয়। রয়েল কালারের মুরগির দাম বেশী। এক জোড়া রয়েল কালারের মুরগি ১২-১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এক জোড়া বাচ্ছা বিক্রি হয় ২৫শ টাকায়। অনেক সময় শখ করেও অনেকে কিনে নিয়ে যায় পালনের জন্য। মাসে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ হয়। তিনি আরো বলেন, যশোর, খুলনা, চট্রগাম ও কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা বাড়ীতে এসে নগদ টাকায় মুরগি কিনে নিয়ে যায়। এদের রোগ বালাইও হয় না। সফলতা হিসেবে মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত দুই বিঘা জমি কিনেছি। বাবাকে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়েছি। মাঝে মধ্যে আমিও চালায়। আর একটি পাঁকা বাড়ি তৈরী করেছি। মিজানুরের মা রেবেকা খাতুন বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি এদের খাবার দিতে আমার কোন কষ্ট হয় না। খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, এদের বাড়তি কোন খাবার লাগে না। পল্ট্রি ফিড ও ঘাস কেঁটে দেই প্রতিদিন। এ মুরগি পালন করে বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন উল্লেখ করে মিজানুর রহমানের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, খুব ছোট পরিসরের খামার হলেও এখন আর আমাদের অভাব নেই। সংসার ভালো মতোই চলছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খামারটি আরো বড় পরিসরে করতে পারবো। যেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেও সুযোগ হবে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বিশ্বজিত কর্মকার বলেন, সাতক্ষীরার অনেক যুবকরাই টার্কি মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের কোন পক্ষ থেকে কোন পরামর্শ সহায়তার প্রয়োজন হলে সেগুলো অবশ্যই করা হবে। তাছাড়া আমরা জনগণকে এ মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। বেকার যুবকরা এগিয়ে আসলে তার্কিজ মুরগি পালন করে সাবলম্বী হতে পারবেন।