ডিভোর্স একটি সামাজিক ক্যান্সার!

0
31

অনলাইন ডেস্ক:

ডিভোর্স, শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু আমরা কি জানি একটি ডিভোর্সের পিছনের মূল কারণ কি থাকে? আমাদের সমাজে দেখা যায় ছেলে-মেয়েরা নিজেরাই পারিবারিক সিদ্ধান্তকে উপক্ষা করে নিজেরাই বিয়ের বন্ধনে আবন্ধ হন। অন্যদিকে পারিবারিক ভাবে ছেলে-মেয়েরা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। কিন্তু সংসার জীবনের এক পর্যায়ে সম্পর্কের একটা টানাপড়ন ঘটলেই চট জলদি দম্পতিরা চলে যাচ্ছেন বিবাহ বিচ্ছেদের পথে। অথচ তারা সমাজ ও সম্পর্কের কথা একবারো চিন্তা করছেন না। ডিভোর্স একটি সামাজিক ক্যন্সার! আমাদের উচিত সম্পর্কের ভাঙন থেকে সমাজ ও পারিবারকে রক্ষা করা।

সংসার ভাঙার কারণ সবার ক্ষেত্রেই প্রায় একই রকম। দাম্পত্য জীবনের ভাঙন কিংবা ডিভোর্সের নেপথ্যে রয়েছে মতানৈক্য, মতবিরোধ, সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অমিলসহ নানা কারণ তো আছেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- অবিশ্বাস, সন্দেহ আর মতবিরোধ বাড়ছে কেন? অনেকেই এজন্য সময়কে বিদ্ধ করছেন। এখন সময়টাই এমন। একান্ত সম্পর্কের মধ্যেও ঢুকে গেছে তৃতীয় পক্ষ।

যেভাবে খুবই দ্রুত গড়ে উঠছে প্রেম-বিয়ে। ঠিক সেই ভাবেই হঠাৎ করেই ঘোষণা আসছে ডিভোর্স কিংবা ভাঙনের। সুশীল সমাজ শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এই ডিভোর্স নিয়ে। তাই তারা দম্পতিদের মানসিকতার পরিবর্তন, ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া ব্যাক্তিগত ইমেজ কলঙ্কিত হবে, প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তলানিতে গিয়ে ঠেকবে এ অঙ্গনের মানুষদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা।

সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিত দম্পতিরাও যাচ্ছেন ডিভোর্সে। যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে। তবে বাস্তবতা বলছে, সমাজে সম্পর্ক ভাঙার সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। বলা যায় ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে সংসার ভাঙার খবর সমাজে হরহামিসেই শোনা যাচ্ছে। এসব ঘটনা এলোমেলো করে দিচ্ছে পুরো সমাজের ইমেজকে।

দেখা যাচ্ছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই আর দেরি করছেন না তারা। চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিভোর্সে চলে যাচ্ছেন। যেন পানির মতো সহজ ব্যাপার স্যাপার। বলা যায় ছেলেখেলার মতো করেই সম্পর্কের সূত্রপাত, বিয়ে এবং অতঃপর ডিভোর্সের মাধ্যমে যবনিকা।

বিভিন্ন মহল জানাচ্ছে প্রাপ্ত বয়স না হতেই অনেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। আর সংসার জীবনের কিছুদিন পাড়ি দেবার পর তাদের মধ্যে মত বিরোধ তৈরি হচ্ছে। আর এক সময় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ডিভোর্সের। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি?

অন্যদিকে এখনকার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভার্চুয়াল মানুষিকতা বিদ্যমান। স্যোশাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে গেছে এখন ভালোবাসা। নিদির্ষ্ট কোন সীমাবদ্ধতা নেই বললে চলে ভালোবাসায়। এমন যদি একের পর এক চলতে থাকে তাহলে আগামী প্রজন্ম কি পাবে আমাদের কাছ থেকে? আসছে প্রজন্মকে কি জবাব দিবে সমাজ?

লেখক ও সাংবাদিক

LEAVE A REPLY