টাইম মেশিন তৈরি সম্ভাবনা ঘোষণা

0
135
এবারে আর কল্পবিজ্ঞান লেখকের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত কারিকুরি নয়, টাইম মেশিন তৈরির সম্ভাবনাকে ঘোষণা করে দিলেন বিজ্ঞানীরা।
মার্কিন গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী বেন টিপেট জানিয়েছেন, তিনি সময় ভ্রমণের উপায় সংক্রান্ত এক গাণিতিক সূত্র আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছেন।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার শিক্ষক টিপেটের বক্তব্য ‘সময় ভ্রমণ আর গল্প নয়। গাণিতিক ভাবে সময় ভ্রমণ অবশ্যই সম্ভব’।
১৮৮৫ সালে এইচ জি ওয়েলস-এর উপন্যাস ‘টাইম মেশিন’ প্রকাশের পর থেকে মানুষ সময় ভ্রমণের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে ওঠে। তারপর থেকে কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের অন্যতম উপজীব্য হয়ে ওঠে টাইম মেশিন। হলিউড বার বার বিভিন্ন অছিলায় ফিরিয়ে আনতে থাকে সময় ভ্রমণকে। বিজ্ঞানও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে শুরু করে টাইম মেশিনের বিষয়টাকে।
১৯১৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তার প্রখ্যাত আপেক্ষিকতাবাদ ব্যক্ত করেন। যাতে সময় ও পরিসরের সাপেক্ষে এমন কিছু কথা বলা হয়, যা সময় ভ্রমণের পরিকল্পনাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করে। আইনস্টাইন সময়েকে ‘চতুর্থ মাত্রা’ হিসেবে ধরেছিলেন। ১০০ বছর পরে টিপেট জানাচ্ছেন, চারটি ডাইমেনশনকে একত্রে কল্পনা করা প্রয়োজন।
তার মতে, আইনস্টাইন-মডেলে সময় ও পরিসরের বক্র ধারণা গ্রহের বক্র কক্ষপথের অনুরূপ। কিন্তু একটা ‘সমতল’ সময় ও পরিসরের ধারণায় গ্রহ-তারাও সরলরেখায় গমন করে। এই সূত্র মানেলে দেখা য়ায়, ব্ল্যাক হোল-এর কাছাকাছি সময়ের গতি হ্রাস পায়। তার মডেলে এক বৃত্তাকার সময়-পরিসর কল্প সময় ভ্রমণেচ্ছুকে অতীতে নিয়ে যেতে সমর্থ হবে।
তবে টিপেট বলেছেন, তার এই সিদ্ধান্ত গাণিতিকভাবে সিদ্ধ হলেও একে বাস্তবে প্রয়োগ করে টাইম মেশিন তৈরি করা এখনও দূর অস্ত। কারণ তার মতে, এই মেশিন তৈরি করতে হলে এমন পদার্থ প্রয়োজন, যা সময়-পরিসরের বাঁক অনুযায়ী নিজেও অসম্ভব সব বাঁক নিতে সমর্থ। তেমন পদার্থ আজও আবিষ্কৃত নয়।
টিপেটের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি’ নামের এক পত্রিকায়।