জেলা পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসছে ২০ দলীয় জোট

47
272

অনলাইন ডেস্ক :

যে পদ্ধতিতে ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে তাকে সংবিধান পরিপন্থি দাবি করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আসন্ন এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৈঠকে বসছে জোটের শরিক দলগুলো।

রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে শরিক দলগুলোর মহাসচিবদের বৈঠক হয়, যেখানে জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জেলা পরিষদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, অবাধ হবে, সে ব্যাপারে আমাদের শরিক দলের প্রায় সবাই প্রশ্ন রেখেছেন এবং তারা সন্দিহান যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। একদিকে সংবিধান লঙ্ঘন করে এই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও পক্ষপাতিত্ব-এ বিষয়গুলো সামনে রেখে এই নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট অংশ গ্রহণ করবে কি করবে না- তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জোটের শীর্ষ বৈঠকে।

তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের মেয়াদপূর্তিতে দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ২৮ ডিসেম্বর দিন ঠিক করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের বর্তমান বিধান সংবিধান পরিপন্থি দাবি করে ফখরুল বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন যে পদ্ধতিতে হতে যাচ্ছে, তা সংবিধানের যে মৌলিক বিষয়টি রয়েছে, তার পরিপন্থি। অর্থাৎ এখানে একটি ইলেক্টোরাল কলেজ তৈরি করা হয়েছে, শুধুমাত্র যারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই এই নির্বাচনে ভোটার হবেন। জনগণের যে প্রত্যক্ষ ভোটের যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে পরিষ্কার করে বলা আছে যেকোনো প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারই হোক অথবা জাতীয় সংসদের কোনো আসনই হোক- তা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে। এ বিষয়ে কোনো আইনও করা হয়নি। ফলে এ নিয়ে অস্পষ্টতা থেকে যায়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর ফলাফল ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাই কাজ করছে না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, ভবিষ্যতে যে নির্বাচনের সুযোগ পাবেন, তাও সুষ্ঠু হবে না। কারণ এই কমিশনের কোনো মেরুদণ্ড নাই, যোগ্যতা নাই এবং তারা সরকারের হুকুম পালন করা ছাড়া আর কোনো কাজই করে নাই।

নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন জাতীয় পার্টির(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নুর মুহাম্মদ কাশেমী, জামায়াতে ইসলামীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিক উদ্দিন।

এছাড়া ছিলেন জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন সাউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, লেবার পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, মাহমুদ খান, ন্যাপ-ভাসানীর গোলাম মোস্তফা, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সাম্যবাদী দলের এসএম হানিফুল কবীর, ডিএল‘র মতিউর রহমান প্রমুখ।

47 COMMENTS