জিরো থেকে কোটিপতি চেয়ারম্যান মুজিবর : পর্ব -১

0
5215

জাহিদ হোসাইন:

জিরো থেকে কোটিপতি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান। ৮ বছর আগে যিনি চাঁদপুর ডেল্টা গ্রামের আলহাজ্ব আঃ করিমের মৎস্য ঘেরে নৈশ্য প্রহরী হিসাবে দৈনিক দুশ’ টাকা হারে বেতনভোগী কর্মচারী ছিলেন, পরিবার নিয়ে যিনি শিমুলিয়া সাংবাড়িয়ায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট টালীর ছাউনির ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করতেন তিনিই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।Untitled-3copy

তিনি এখন ৩ কোটি টাকা মূল্যের আলিশান বাড়ি, বিলাশবহুল ২ টি প্রাইভেটকার, গাজিরহাট বাজারে ৩ তলা বিশিষ্ট ভবন, বাড়ির অদুরে কোটি টাকা মূল্যের কয়েক বিঘা জমি, ভারতের হাসনাবাদ থানার অন্তর্গত রোজিপুর গ্রামে নিজস্ব একতলা বিশিষ্ট বাড়ি, কালবাড়িয়ায় পাঁচশ’ বিঘা জমির মৎস্য ঘের, গাজিরহাটে নিজস্ব মৎস্য আড়ৎসহ কোটি কোটি টাকার মালিক। কয়েকবছরে এত টাকা কোথায় পেলন আর এ টাকার উৎস্য কী? জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত চতুর আর ধূর্ত বাজ মুজিবর রহমান বর্তমান ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী এক নেতাকে নিজের নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ধোকাবাজী ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্যে নেমে পড়েন। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সরকার প্রদত্ত সকল কাজ জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের মাঝে বিতরণ করেছেন। বর্তমানে তার বডিগার্ড আরিজুল ইসলাম ৩/৪টি সহিংসতা মামলার আসামী। তার ড্রাইভার আবু সাঈদ দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার।Untitled-4 copy
এছাড়া বর্তমান সরকার বিনামূল্যে বিদ্যুতের নতুন লাইন, মিটার, বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রদান করার  ঘোষণা দিয়েছে। অথচ তিনি আতাপুর, কামটা, শিমুলিয়া, জগন্নাথপুর, হাদিপুর, দক্ষিণ নাংলা, ঘোনা পাড়া গ্রামের প্রায় ১৮৫ জনের কাছ থেকে মিটার প্রতি ৫ থেকে ১২ হাজার টাকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রতি ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেবহাটার ১১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগের পূর্বেই চাকরি দেবার নাম করে একাধিক প্রার্থীদের নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে অর্থ বাণিজ্য করেছেন। এ ছাড়া এমপির ডিও লেটার ব্যবহার করে এমপির নাম ভাঙিয়ে জামায়াত বিএনপির লোকদের প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। Untitled-2 copyনওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক লাভলু বলেন, চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান বিদ্যুতের মিটার ও খুঁটি দেবার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমন কী বছর দুয়েক আগে বিদ্যুৎ এর খুঁটি বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি কোন খুঁটির ব্যবস্থা করতে পারেননি। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেনস্থা করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমার বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হচ্ছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি বলেন, আমার জানামতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ সত্য। আমি এ সকল বিষয়ে ঢাকায় দূর্ণীতি দমন কমিশনে কথা বলেছি। তারা তদন্ত করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেছেন। এছাড়া আমাদের এলাকার শতশত জনগণ তার অনিয়মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছে।

LEAVE A REPLY