জল্পনা-কল্পনার অবসান কাটিয়ে কে হচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

0
16

বরুণ ব্যানার্জীঃ

ব্রিটেনের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির সমর্থন ততই বাড়ছে। কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে বিপুলভাবে এগিয়ে ছিল ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। কিন্তু দ্য টাইমসের উদ্যোগে করা সর্বশেষ জনমত জরিপের ফল অনুযায়ী দেখা গেছে, কনজারভেটিভ পার্টি ২০টি আসন হারাতে পারে আর লেবার পার্টির আসন ২৮টি বাড়তে পারে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভ-এর উদ্যোগে করা জরিপের ফল সত্য হলে কনজারভেটিভ পার্টির আসন ৩৩০টি থেকে কমে দাঁড়াবে ৩১০টিতে, যা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১৬টি কম। অন্যদিকে, লেবার পার্টির আসন সংখ্যা ২২৯টি থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৫৭টিতে। লিবডেমের আসন ৯টি থেকে ১০টিতে উন্নীত হতে পারে, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৫০টি আসন, গ্রিন পার্টি ১টি আর প্লাইড কামরি ৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহব্যাপী ৫০ হাজার লোকের মধ্যে পরিচালিত হয় এই জরিপ। এতে সব ধরনের ভোটারকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক গণভোটে তারা কীভাবে ভোট দিয়েছিল, তাদের বয়স, কোথায় বসবাস এবং অন্যান্য নেপথ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ইউগভ। এরপর সেই তথ্যের সঙ্গে অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্সের ডাটা, ব্রিটিশ ইলেকশন স্টাডিজের তথ্য এবং অতীতের নির্বাচনের ফলগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে প্রত্যেকটি আসনের জন্য আলাদা আলাদা সম্ভাব্য ফলের তালিকা তৈরি করেছে জরিপকারী প্রতিষ্ঠানটি। তবে জরিপের ফল প্রকাশ করে ইউগভ এ কথাও বলেছে, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটতে পারে। কনজারভেটিভের জন্য ৮ জুন খুব বেশি খারাপ হলে তারা ২৭৪টি আসন পেতে পারে আর খুব ভালো দিন হলে ক্ষমতাসীন দলটি ৩৪৫টি আসন পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে জরিপে।

এদিকে, স্কাইনিউজ টেলিভিশন ও বিবিসি টেলিভিশনে দুই দফা বিতর্কসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ছোট বড় সমাবেশে বড় দুই দলসহ অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো এবং আঞ্চলিক দলগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আগ্রহ ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির ইশতেহারের প্রতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেন এবার ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে মে’র ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে টিভি বিতর্কে অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তবে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেই দিয়েছেন তিনি বিতর্কে থাকবেন না। জেরেমি করবিনও আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মে না থাকলে, তিনিও না থাকতে পারেন। বিভিন্ন জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে একটি দলকে যে কয়টি আসন পেতে হয় তার চেয়ে কনজারভেটিভরা ১৬টি আসন কম পেতে পারে। দ্য টাইমস পত্রিকার পক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভ আসন নিয়ে একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। সে হিসাবে কনজারভেটিভরা ৩১০টি আসনে বিজয়ী হতে পারে। কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করতে একটি দলকে পেতে হয় কমপক্ষে ৩২৬টি আসন। ফলে ওই পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র কনজারভেটিভ দল ১৬টি আসন কম পেতে পারে। তাহলে ব্রিটেনে নতুন পার্লামেন্ট হতে পারে ঝুলন্ত। বিরোধী লেবার দলের সাবেক প্রধান এড মিলিব্যান্ড ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভরাডুবির শিকার হন। নতুন পার্লামেন্ট ঝুলন্ত হতে পারে এমন পূর্বাভাস থাকলেও তিনি টুইটারে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে ব্রিটেনের মধ্য-ডানপন্থী লেবার দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেরেমি করবিন। তার দল এ নির্বাচনে আগের চেয়ে ২৮টি আসন বেশি পেতে পারে বলে জরিপে বলা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে লেবাররা বিজয়ী হবে ২৫৭ আসনে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা একটি আসন বেশি পেয়ে বিজয়ী হতে পারে ১০টি আসনে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি চারটি আসন হারাতে পারে। এর মাধ্যমে তারা বিজয়ী হতে পারে ৫০টি আসনে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালে ব্রিটেনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছিল। তখন লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও কনজারভেটিভরা গঠন করেছিল জোট সরকার। এর নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

এবার নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দলের জনসমর্থন ছিল শতকরা ২০ ভাগের মতো। কিন্তু তার দল নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, সেই জনসমর্থন আস্তে আস্তে কমছে। গত সপ্তাহে দেখা গেছে, শতকরা মাত্র ছয় ভাগ বেশি সমর্থন রয়েছে কনজারভেটিভদের। দেখা যাক সব জল্পনা-কল্পনার অবসান কাটিয়ে কে হচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY