জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে না পারলে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে

559
2256

বরুণ ব্যানার্জীঃ

আজ ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০৫০ সালে এই ধরণীর জনসংখ্যার পরিমাণ হবে ৯৮০ কোটি। ইতোমধ্যেই পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়েছে। একটা বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে এগিয়ে চলেছে আমাদের এই ধরণী। আর এই জনসংখ্যা ক্রমাগত হারে বেড়েই চলেছে। যদিও বিশ্বে এমন দেশও আছে যেখানে জন্মহার এবং মৃত্যুহার সমান। অর্থাৎ জিরো পপুলেশন কান্ট্রি। তবে এর সংখ্যা হাতেগোনা। অন্য দেশগুলোতে কমবেশি বিভিন্ন হারে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় এশিয়া মহাদেশে জনসংখ্যার হার বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং চীনে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বসবাস।

বাংলাদেশও জনসংখ্যার অবস্থানগত দিক দিয়ে জনবহুল দেশের কাতারে অবস্থান করছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী হিসেবে আমাদের তিলোত্তমা নগরী ঢাকার নাম কয়েকটি শহরের পরেই শোনা যায়। অনেক আগেই মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে ঢাকা। বহুদিন ধরেই এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা ফলপ্রসূ হবে? তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুহারে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাটাই আজ জরুরি।

১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ছোট দেশটিতে এখন জনস্রোত। ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর কাতারে বাংলাদেশের অবস্থান। জনসংখ্যা কী হারে বাড়ছে, একটি তথ্য দিলে তা বোঝা যাবে। স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম আদমশুমারি বা জনগণনা করা হয়। সে সময় এদেশে ৭.৬৪ কোটি মানুষ ছিল। এরপর ১৯৮১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে প্রতি দশ বছর পর পর আদমশুমারি করা হয়ে থাকে। ২০০১ সালের আদমশুমারি থেকে দেখা যায়, এ দেশের জনসংখ্যা ১২.৯৩ কোটি। অর্থাৎ ১৯৭৪ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ২৭ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ৫.২৮ কোটি। এ সময় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.৪৮ ভাগ। ২০০৭ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, তখন জনসংখ্যার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৬ লাখ এবং বৃদ্ধির হার ১.৪১ ভাগ।

ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার সুদূর অতীতে এত ছিল না। যেমন-১৮৬০ সালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জনসংখ্যা ছিল মাত্র দুই কোটি। ১৯৪১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪.২০ কোটি। অর্থাৎ ৮০ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২ কোটি। আবার ১৯৬১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৫.৫২ কোটি এবং ১৯৯১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১.১৫ কোটিতে। এর মানে দাঁড়ায় এই ত্রিশ বছরেই বেড়েছে দ্বিগুণ। জনসংখ্যার বিচারে আমাদের দেশ অষ্টম স্থানে রয়েছে। কোথাও কোথাও অবশ্য নবমও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অষ্টম বা নবম যাই হোক স্থানের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা যে অনেক বেশি এই নিয়ে দ্বিমত করার কিছু নেই বলেই মনে হয়। প্রতিবছর এদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে ২৫ লাখ করে (কোথাও কোথাও ২০ লাখ বলা হয়েছে।) এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী বিশ বা ত্রিশ বছরে আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে নানা প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে উন্নয়ন এবং জীবনমানের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ জনসংখ্যা এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি বিষয়।

স্বাধীনতার পর এদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। তারপর থেকে বেড়ে চলা জনসংখ্যার জন্য, তাদের স্থান সংকুলান করার জন্য একের পর এক আবাস গড়ে উঠেছে। যার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমি। যেখান থেকে আমাদের অন্নের ব্যবস্থা হয়। তার মানে হলো জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জমির পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। প্রতিবছরই এই জমির পরিমাণ কমছে। এর জন্য বনজঙ্গল কেটে সাফ করা হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বনভূমি। ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতি। যার প্রভাব আমরা ইদানীং বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছি। জনসংখ্যার চাপ সামলাতে না পেরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে নগরী এবং বাসস্থান। ফলে ভূমিকম্পের ভয়ে আতঙ্কে থাকে নগরীর মানুষ। শুধু ফসলি জমিই নয়, বরং পুকুর, নদীনালা, খাল, বিল সব ভরাটের মাধ্যমে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। কারণ মাথাগোঁজার ঠাঁই দরকার। সেটা যেমন প্রয়োজন আমার আপনার, তেমনি অন্যেরও। ফলে বাধ্য হয়েই এসব জায়গায় মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিচ্ছে মানুষ।

জনসংখ্যা দেশের সম্পদ না বোঝা এ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে। প্রতিটি মানুষই একেকটি সম্পদ। তার সামর্থ্য আছে এবং সে দেশের জন্য কিছু করতে পারে। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সেই স্পৃহা আছে। যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ পায় না। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব প্রতিভা থাকে, স্বীয় যোগ্যতা থাকে। দরকার শুধু প্রকাশ করার উপযুক্ত পরিবেশ এবং সহযোগিতা। কোনো মানুষই অবহেলার নয়। বরং তার সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি করাই হচ্ছে রাষ্ট্রের কাজ। শিক্ষার আলো পারে অন্ধকার দূর করতে।

১৫-১৬ কোটি মানুষের এই দেশে ইতোমধ্যেই জনসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধিজনিত কারণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিবাহ রোধ জরুরি। যদিও গ্রামাঞ্চলে এই বিষয়টি আশঙ্কাজনক হারেই বেড়ে চলেছে। মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকায় এসব বিয়ে ঠেকানোর নানা খবর প্রকাশ হলেও আসলে এর বড় অংশটিই আড়ালে থেকে যায়। কারণ কুসংস্কার এবং অজ্ঞানতা থেকে বের করতে না পারলে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে না পারলে সমস্যা আরো ঘনীভূত হবে। আমাদের সম্পদ সীমিত। ফলে এই সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যদি আমরা ভুলে না যাই, পৃথিবীর সেরা সম্পদের নাম মানুষ। তাহলে এই সম্পদকে ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই সকল অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা যাবে। আর এ কাজে যারা সফল হয়েছে, তারাই আজ পৃথিবী শাসন করছে। কথাটা মনে রাখা আমাদের মতো দেশের জন্য খুবই জরুরি।

 

559 COMMENTS

  1. hey there and thank you for your information – I’ve definitely picked up something new from right here. I did however expertise some technical points using this site, since I experienced to reload the site many times previous to I could get it to load properly. I had been wondering if your web host is OK? Not that I’m complaining, but sluggish loading instances times will very frequently affect your placement in google and can damage your high-quality score if advertising and marketing with Adwords. Well I am adding this RSS to my e-mail and can look out for a lot more of your respective intriguing content. Make sure you update this again very soon.|