ছাত্রীসহ ধরা পড়ল অধ্যাপক আসাদুজ্জামান

0
383

মুনসুর রহমান:
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এনজিও কর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে শনিবার দুপুরে শহরের খুলনা রোডস্থ কেয়া ডায়গনস্টিক সেন্টারের ৫ম তলায় ভাড়াটে রুমে আটক করে স্থানীয়রা। জানা গেছে, লম্পট আসাদুজ্জামন ২ সন্তনের জনক। তার মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার স্ত্রী বাগআঁচড়াতেই থাকেন। আর সেই সুযোগে আসদুজ্জামান একের পর এক বিভিন্ন মেয়ের সর্বনাশ করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রী জানান, কিছুদিন আগে লম্পট আসাদুজ্জামান ছাত্রীকে তার বাসায় গিয়ে ঘর-বাড়ি একটু গুছিয়ে দিতে বলেন। ওই ছাত্রী প্রথমে অস্বীকার করলে আসাদুজ্জামান তাকে ইনকোর্সের নম্বরের ভয় দেখান। এরপর ওই ছাত্রী আসাদুজ্জামানের বাসায় গেলে আসাদুজ্জামান জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। লজ্জ্বায় এ ঘটনা ওই ছাত্রী কাউকে জানাতে না পেরে এক পর্যায়ে কলেজে আসাই বন্ধ করে দেন। সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা লম্পট আসাদুজ্জামানের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, “মেয়েটি সম্পর্কে আমার নাতনি হয়। সে সাতক্ষীরার এসেছিল বেড়াতে। আমি একটু রেস্ট নেয়ার জন্য তাকে আমার রুমে নিয়ে এসেছিলাম। বিষয়টি এর বেশি কিছুু নয়।” এটিকে কেউ কেউ ভিন্নভাবে উপস্থাপনা করছেন।

এদিকে লম্পট আসাদুজ্জামানকে উদ্ধার করতে যাওয়া সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শিক্ষক পর্ষদের সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, “অধ্যক্ষ স্যার আমাকে ফোনে একাধিকবার অনুরোধ করেন শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে কলেজে নিয়ে আসার জন্য। আমি জানতামই না সে কি ধরনের বিপদে আছে। তবে যেহেতু আমার অধ্যক্ষ স্যার বারবার আমাকে আদেশ করেছেন তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমি ঘটনা সম্পর্কে এর আগে কিছুই জানতাম না।”

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকাত পারভেজ জানান, আমরা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করব।

তবে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি। তবে সত্যতা নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর আগেই কলেজের অধ্যক্ষ তাদের কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়।