চার বছর পর বেসরকারি খাতে ঋণের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

0
70
অনলাইন ডেস্ক:
অবশেষে বাড়ছে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা। বিগত চার বছর পর বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গত চার বছরের মধ্যে এটিই বেসরকারি খাতে ঋণের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের পর থেকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশ্য ২০১৫ সালের শুরু থেকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কিন্তু ২০১৩ সালের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়ে, যা পরের বছরেও প্রলম্বিত হওয়ায় ঋণ প্রবাহে মন্দাভাব দেখা দেয়। এরপর থেকে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৫ সালের  জুনে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বরে এসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশে। ২০১৬ সালের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জানা গেছে,বিগত কয়েক বছর তৈরি পোশাক ছাড়াও  বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, ওষুধ শিল্পের সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন। এসব খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে ঋণ চাহিদা বেড়েছে। একইসঙ্গে বিনা মার্জিনে চাল আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সম্প্রতি অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকের অর্থে চাল আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন। এর সঙ্গে খাদ্যপণ্য গম,ভোজ্যতেল, চিনি,পেঁয়াজ আমদানিতেও অর্থায়ন করেছে ব্যাংকগুলো।এছাড়া সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র আমদানিতেও ঋণ চাহিদা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানির জন্য ৪৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৯ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ২৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত  বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক ধরনের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, অনেক দিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে দেশে। আবার সুদের হারও কমে গেছে। ফলে দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে বেশ তৎপরতা দেখাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক, টেলিকম, জ্বালানি, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে।   এছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ শিল্পায়নে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতের ঋণে ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের জুলাইয়ের শেষে ছিল ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি  বেড়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও হওয়া দরকার। কারণ, গত টানা সাড়ে তিন থেকে চার বছর ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থবিরতা বিরাজ করছিল।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের যেসব সমস্যা রয়েছে, এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা জরুরি।’