চটকা গাছ কেটে নেয়ার চেষ্টায় হাইব্রিড নেতারা ।। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মুনছুর

0
205

শহর প্রতিনিধিঃ

ওরা সব হাইব্রিড নেতা। আগে কেউ স্মাগলিং করতো। কেউ করতো ডেকোরেশন এর ব্যবসা। এখন দেখি আওয়ামী লীগ যুবলীগের বড় বড় নেতা। আজ তারাই আমার তিনটি চটকা গাছ কেটে নেযার চেষ্টা করছেন । আমি একজন দরিদ্র প্রতিবন্ধী মানুষ। এ ক্ষতি কীভাবে পুষবো আমি। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মুনছুর আলি। তিনি বলেন, তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে আমার গাছ তিনটি কেটে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ জেলা চেয়ারম্যান তাদের গাছ কাটতে বলেন নি। তিনি বরং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আবদুর রশীদকে দুই পক্ষকে বসিয়ে মীমাংসা করার কথা বলে দিয়েছিলেন । কিন্তু হাইব্রিড নেতারা তা অমান্য  করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে গাছগুলির বেশ কিছুটা কেটেও ফেলেছেন। মুনছুর আলি বলেন, আমি বড়খামারের জব্বার কারিকরের কাছে আমার নিজের জমি থেকে দুই  শতক বিক্রি করেছিলাম। ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো ছিল। সম্প্রতি মাপ জরিপে ওই  জমিতে থাকা তিনটি বড় আকারের চটকা গাছ আমার ভাগে পড়ে। ওই গাছগুলি তিনি অহেতুক  দাবি করতে থাকেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য ব্রহ্মরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর ভার দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান বলেন ঈদের পরে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেবেন’। মুনছুর আলি আরো বলেন, এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে শুক্রবার খুব সকালে জব্বার কারিকরের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন লিটন, হাইব্রিড নেতা স্মাগলার লুৎফর রহমান ও কাদেরের হুকুমে শ্রমিকরা তার তিনটি চটকা গাছ কেটে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা বারবার পুলিশের ভয় দেখায় আমাকে। আরও বলে নজরুল সাহেব গাছ কাটতে বলেছেন। অথচ জেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের গাছ কাটতে বলেন নি। তিনি রশীদ সাহেবকে দায়িত্ব দেন নিষ্পত্তি করতে। তারা সে সব কথা না শুনে গাছ কেটে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মুনছুর আলি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিকার দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিবন্ধী ছেলে মো. সলেমান ও চাচাতো ভাই মো. শাহজাহান। এ ব্যাপারে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন লিটন জানান, প্রতিবন্ধী মুনসুর যে জমির গাছ দাবী করছেন, সে জমি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি যেখানে জমি পাবেন সেখানে কোন গাছ নাই। তিনি আরো জানান, বিষযটি নিষ্পত্তি করবার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতারা বিকেলে একটি সালিশি বৈঠক ডেকেছেন।