‘ঘুম থেকে উঠে যেন শুনি চালের দাম কমে গেছে’

0
63

অনলাইন ডেস্কঃ

হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে চালের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে সভা ডেকে চালকল মালিকদের এক হাত নিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান।সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আপনাদের কোনো কথা শোনা হবে না। সব তথ্য আমার কাছে আছে।  সকালে ঘুম থেকে উঠে যেন শুনি চালের দাম কমে গেছে।বৃহস্পতিবারের মধ্যে চালের বাজার সহনীয় পর্যায়ে না আসলে আপনাদের ভাগ্যে কি ঘটবে তা কেউ বলতে পারবে না। কারা মজুদদারির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তা আমার জানা রয়েছে।গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও আপনাদের নাম এসেছে। তাই নির্দিষ্ট সময় শেষে হলে আপনাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। বন্যার অজুহাত দেখিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি তিন টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।আর চালের বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সম্প্রতি চালের বাজারে অস্থিরতার কারণ অনুসন্ধানে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।প্রতিবেদনে বলা হয় বেশ কিছু চালকল মালিক অধিক মুনাফা লাভের আশায় পরিকল্পিতভাবে বাজার অস্থির করছে। বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।কুষ্টিয়ার প্রায় অর্ধশত মিল মালিক এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত। যাদের গুদামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধান। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কুষ্টিয়ার চালের বাজারের এই অস্থিরতার সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিল মালিক, চালকল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও চেম্বারের সাথে জরুরি সভায় মিলিত হন।বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, চালকল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার চালকল মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।জেলা প্রশাসক চালকল মালিকদের সাফ জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই চালের বাজার অস্থির করা যাবে না। কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম মিল মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মিল মালিকরা ঘাপটি মেরে থেকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বাজার অস্থির করছেন।এমন চক্রান্ত সহ্য করা হবে না। সভায় জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, চাল ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই। বাজার অস্থিরতার পেছনে আমাদের কোনো হাত নেই। তবে বাজার সহনীয় রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।সম্প্রতি চালের বাজার অস্থিরতার কারণ অনুসন্ধানে কুষ্টিয়ায় সরকারি একটি গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় ৫০০ মিলের মধ্যে ৭০টি মিলে চালের অস্বাভাবিক মজুদের প্রামাণ মেলে।এর মধ্যে ৫০ টি হাস্কিং এবং ২০টি অটোমেটিক রাইস মিলের নাম রয়েছে। এসব মিলে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধান মজুদ রয়েছে।যদিও সরকারি হিসাবের বাইরে মজুদের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। তবে ওই তালিকা আরও ছোট করা হয়। যারা অতিমাত্রা চালের মজুদ করে বাজার অস্থির করছে তাদের তালিকা ছয়টিতে নামিয়ে আনা হয়।ওই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের নাম। এর পরই রয়েছে বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুড, দাদা রাইস মিল, স্বর্ণা রাইস মিল, ব্যাপারী এবং থ্রিস্টার রাইস মিলের নাম।গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী রশীদ অ্যাগ্রোতে চাল মজুদের পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুডে রয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন, স্বর্ণা রাইস মিলে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, দাদা রাইস মিলে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, ব্যাপারী রাইস মিলে ১৬ হাজার মেট্রিক টন এবং থ্রিস্টার রাইস মিলে মজুদের পরিমাণ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।

LEAVE A REPLY