গৃহ শ্রমিকের নির্যাতন ও শিশুশ্রম রোধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে

0
108

বরুণ ব্যানার্জী:

দেশে গৃহ শ্রমিকের নির্যাতন ও শিশুশ্রম দিন দিন বেড়ে চলেছে। শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তার পরিবারের বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিশু গৃহকর্মীদের  প্রতি এ ধরণের সহিংসতা উদ্বেগজনক ও আশঙ্কার। বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ লোক গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৩ সালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ২০ হাজার শিশু গৃহকর্মে নিযুক্ত রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রায়ই গৃহশ্রমিককে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হয়। এসিড সন্ত্রাস, ইভটিজিংয়ের  মতো বিষয়গুলো যতোটা আলোচনায় উঠে আসে তার সিকিভাগও গুরুত্ব পায় না শিশু গৃহশ্রমিকের নির্যাতনের ঘটনা। মাঝে মাঝে দুএকটি ঘটনা আলোচনায় উঠে আসলেও এরপর এ নির্যাতন বন্ধের বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয় না। বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মতে , চলতি বছরের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত ১৮ জন গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে শারীরিক নির্যাতনে। আর ৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে রয়েছে ১৩ জন। গৃহকর্মীরা সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণি। আর গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান৷ তাই নির্যাতনের মামলা করলেও সেই মামলা চালানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি থাকে না গৃহকর্মীর পরিবারের৷ তাই নির্যাতনে সন্তানের মৃত্যু হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা করতে হয় গৃহকর্মীটির বাবা-মাকে। গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় ও তাদের অধিকার রক্ষায় গত বছর গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা মন্ত্রিসভায় পাস হয়। কিন্তু এর কোনো প্রয়োগ দৃশ্যমান হয়নি। এমনকি শিশু শ্রম বন্ধে যে শ্রম আইন রয়েছে তারও যথার্থ প্রয়োগ হয়নি আজও। অভাবের তাড়নায় দুরন্ত শৈশব ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য হয় দরিদ্র পরিবারের শিশুরা। সারা বিশ্বের এখন ভয়ংকার পেশার নাম শিশু শ্রম। দিনে দিনে এই শ্রমের শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে, তারা আসহায় হচ্ছে কিন্তু প্রতিকারে কিছুই হচ্ছে না। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি এমন এক পর্যায়ে এসে গেছে যে পরিস্থিতি দিনের পর দিন বেড়্ইে চলেছে। দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা এখন প্রায় ৭৯ লাখ। তারাও মানুষ, তারাও এদেশের নাগরিক। তাদেরও রয়েছে অধিকার। তাই শিশু গৃহকর্মী ও শিশু শ্রমিক সুরক্ষায় ও নির্যাতন বন্ধে সরকারের কঠোর আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। গৃহশ্রমিকরা ও শিশু শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হলে যাতে আইনগত সুবিধা যথার্থভাবে পায় তাও নিশ্চিত করতে হবে।