খাজরা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অপসারন দাবি

0
206

বিশেষ প্রতিনিধি :
৫৬নং খাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মিথ্যা মামলা দায়ের ও দুর্নীতিবাজ ওই শিক্ষকের অপসরনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের মৃত. সৈলেন্দ্র নাথের পুত্র অসীত বরণ ঘোষ এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫৬নং খাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ বার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাহাজ্জান আলী একজন দুর্নীতি গ্রস্থ ব্যক্তি। সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার বিভিন্ন দুর্নীতি আমার কাছে ধরা পড়ে। এ বিষয়ে তাকে বার বার বলা হলেও তিনি আমার কোন কথায় তোয়াক্কা না করে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তার দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে,  উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত, সিলিপ এর মালামাল আদৌও ক্রয় না করে আমার স্বাক্ষর ছাড়াই ভাউচার প্রদান। স্কুলে ৫ শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবকদের নিকট থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে কোচিং ফি বাবদ ৩০০ টাকা আদায়, টাকা নিয়ে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় ফলাফল উলট-পালট করা। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার তার দুর্নীতির তদন্তও করেছেন। ২০১৪ সালে জামায়াতের আন্দোলনের সময় স্কুলের ছুটি না নিয়ে তিনি ঢাকাতে আন্দোলনে যোগ দেন। আমি সভাপতি পদে থাকলে তার পক্ষে দুর্নীতি করা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে বলে সে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে থাকে এবং এলাকার অভিভাবক সদস্যদের মতামত ব্যতিরেখে রাতারাতি বিদ্যুৎসাহী সদস্যের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় সংসদ বরাবর প্রেরণ করেন। এবিষটির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় খাজরা ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্কুলে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। চেয়ারম্যান স্কুলের অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধান ও করে দেন। কিন্তু ওই শিক্ষক সমাধান না মেনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে তাকে অপহরণ করে মারপিট করা হয়েছে মর্মে ইউপি চেয়ারম্যান ডালিম কে প্রধান আসামী ও আমাকে ৩ নং আসামী করে ৬ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় এস আই তদন্তে গেলে অভিযোগ হওয়া বিস্কুট, চেকসহ সকল কাগজপত্র যথাস্থানে সংরক্ষিত দেখতে পান। যা প্রমাণ করে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা। ওই দুর্নীতিবাজ শিক্ষক তার অপকর্ম ঢাকতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আমাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
এব্যাপারে মিথ্যা মামলা ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।