কৃষির উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা অপরিহার্য

0
138
বরুণ ব্যানার্জী:

কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক তথ্যপ্রযুক্তি রয়েছে। এসব তথ্য প্রযুক্তি কৃষকের ব্যবহার উপযোগী ও সহজবোধ্য করে স্বল্পসময়ের মধ্যে তাদের দোড়গোয়ায় পোঁছে দিতে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। জীবনযাত্রার মান বাড়বে। কৃষি লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তরুণ উদ্যোক্তারা এ খাতে এগিয়ে আসবে। কৃষিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে—এতে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। সারাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১৩ হাজার কৃষি কর্মী আছেন। আর কৃষি পরিবার রয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ। এই বিপুল সংখ্যক কৃষি পরিবারেরর মধ্যে আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ই-কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ই-কৃষি হলো-ইলেকট্রনিক প্রবাহের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক তথ্য সরবরাহের একটি আধুনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেট, রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি ইলেকট্রকি যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে কৃষক, কৃষি উপকরণ ও পণ্য ব্যবসায়ী, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মী, পরিকল্পনাবিদ এবং ভোক্তা ইত্যাদি গোষ্ঠির কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। শীতকালে আলুর মৌসুমে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে বা ঘনকুয়াশা পড়া শুরু করলে নাবী ধ্বসা রোগ দমনের জন্য আলু চাষিদের মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে এবং ছত্রাকনাশক  স্প্রে করে মারাত্মক এই রোগ দমনের মাধ্যমে আলুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ান যেতে পারে। ঠিক একই রকমভাবে আম, লিচু ,কলা ও তরমুজসহ বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও দানা ফসল, মাছ , ডিম, মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা ফেসবুক, টুইটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন, ট্যাব, রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলি ব্যবহার করে কৃষির টেকসই উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। এজন্য এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের নিকট সহজলভ্য হতে হবে এবং ব্যবহার সম্পর্কে কৃষক ভাইদের যথেষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে।