কৃষিকাজ বদলে দিয়েছে আকলিমার জীবন

0
1369

স্টাফ রিপোর্টার:
কৃষিকাজ বদলে দিয়েছে আকলিমার জীবন। লেখাপড়ায় মাস্টারার্স শেষ করেও চাকুরি পাননি। সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু করেন কৃষিকাজ। সম্প্রতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার ১৪২০। বাড়ীর আঙ্গিনায় বিষমুক্ত সবজি চাষ, হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল পালন, রোগ বালাই দমন, জৈব সার প্রস্তুত এসব বিষয়ে এলাকার নারীদের প্রশিক্ষন দেন এ নারী। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে এলাকার অনেক নারী এখন স্বাবলম্বী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বারও। বর্তমানে উপজেলার একজন কৃষক প্রশিক্ষক হিসেব কাজ করছেন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আকলিমা এখন পরিচিত মুখ। কৃষিকাজে একজন মডেল নারী হিসেবে পরিচিত সাবার কাছে।

1
আকলিমার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট কুড়েঘরে বসতি আকলিমা খাতুন ও তার ৮০ বছর বয়সী মা সুফিয়া বেগমের। বাকি তিন বোন স্বামীর সংসারে। ২০০০ সালে ভয়াবহ বন্যায় ভেঁসে যায় বসতঘর। বাবা শামসুদ্দীন সরদার অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করতেন। বৃদ্ধ বাবার আর আয়ের উৎস ছিল না। বাবার কষ্ট দেখে তৎকালীন সময়ে খুলনা বিএল বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যায়রত আকলিমা বই খাতা নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসেন। একটি চাকুরি খুজেও তখন পাননি। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্যার দূর্যোগ শেষে কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে বাবার ৫ বিঘা জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন। পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যান। বাড়ীর আঙ্গিনায় শুরু করেন সবজি চাষ। গড়ে তোলেন কৃষক সংগঠন। এলাকার নারীদের প্রশিক্ষন দিতে থাকেন। নারীরাও তার পরামর্শে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ হন। ২০০৭ সালে তার বাবার মৃত্যু হয়।
আকলিমার কাছে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষন নিতে আসা আসমা খাতুন বলেন, আকলিমার কাছ থেকে পরামর্শ দিয়ে পুইশাক, কুমড়া, সিম, ঝাল, সবজি লাগায়ছি। আমরা বিষমুক্ত সবজির চাষ করছি।  তাতে আমার ভালো চলে, বিক্রয়ও করি আরও লোকজনও করে। অভাব অভিযোগ নেই সংসারটাও ভালোভাবে চলছে।
অপর একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, এখান থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে আমরা যারা স্টুডেন্ট আছি তারা অনেক স্বাবলম্বী হয়েছে। সাথে সাথে আমাদের বসত বাড়ির আঙ্গিনায় যেখানে খালি জায়গা আছে সেখানে শাক-সবজির চাষ করছি এবং ভালো ফলন পাচ্ছি।
এলাকার সিরাজুল ইসলাম জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন আকলিমা। এলাকার অভাবী মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। এলাকার লোকজন তাকে খুব ভালোবাসে। আমরা চাই সে আরও এগিয়ে যাক।
আকলিমার মা সুফিয়া বেগম বলেন, বাড়ী বসে পড়াশুনা করতো আর জমির ক্ষেত দেখাশুনা করতো। বাপ মারা গেছে ১০ বছর আগে। সেই ধরে সংসার চালায় বিয়েও করলো না।

3
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মহসিন আলী বলেন, আকলিমা কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের একজন অগ্রগামী কৃষক। কৃষি দপ্তর বিভিন্ন সময় তাকে পরামর্শ দিয়ে একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে গড়ে তুলেছে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার প্রদানের মাধ্যমে সেটির স্বকৃতি পেয়েছেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি সে সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত। সে কলারোয়া উপজেলার একজন গর্বিত কৃষক। আমরা তাকে নিয়েও গর্ব করি।
আকলিমা বলেন, কাজে কোন লজ্জা নেই, নারীরাও কৃষিকাজে এগিয়ে যাক, স্বাবলম্বী হোক। তবে দেশ এগিয়ে যাবে। এই আশায় আমি সংগ্রাম করে চলেছি।

LEAVE A REPLY