কৃত্রিম সংকটে অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার

0
30

বরুণ ব্যানার্জী:

রমজান মাস এলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবসময় কেনাকাটায় সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করতে হিমশিম খায়। আগুনের লেলিহান শিখার মতো দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতিতে ছুটতে থাকে। মুসলমানদের জন্য রমজান মাসে রোজা বা সিয়াম পালন করা ফরজ। আরও কিছু কারণে এ মাস মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাজারদরের লাগামহীনতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষয়িক ভাবনায় অধিকাংশ মানুষের মন এতই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে যে, ইবাদত-বন্দেগি, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কর্মকাণ্ডেও গরমিল দেখা দেয়। বাজারের হিসাব মেলাতে গিয়ে সবকিছু যেন অমিল হয়ে যায়। তাই এখনই প্রয়োজন বাজারের পুরো হিসাব-নিকাশ ঠিকঠাক করে নেওয়া। বাজেটের মধ্যে সেরে ফেলুন রোজার কেনাকাটা।এই পুরো মাসে খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক পরিবর্তন। মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি ছাড়াও নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার ইফতারের সময় আমাদের লাগে। আর এ সময়টাতেই খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।  রমজানকেন্দ্রিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর ও ভোজ্যতেলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় প্রতিনিয়তই অস্থিরতা বিরাজ করছে বাজারে। রমজানে এসব পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায় বলে আমদানিও হয় পর্যাপ্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানকে কেন্দ্র করে গত ছয় বছরে এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪২ ব্যবসায়ীর গুদাম পূর্ণ ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর ও ভোজ্যতেলে। কিন্তু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীর কজন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিন্ডিকেট পণ্য আমদানি করে গুদামজাত করে রেখেছে। ফলে দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তাসাধারণ।

LEAVE A REPLY